বিয়ে মানেই সোনার গয়না। সোনার গয়না ছাড়া যেন বিয়ে একরকম অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আর সেই সোনার গয়না নিয়েই এক নতুন স্কিম চালু করেছে আসাম সরকার। সেখানে এই স্কিমের জন্য আবেদন করলেই মিলতে পারে সোনার গয়না। গত বছর আসাম সরকার এই স্কিমের কথা ঘোষণা করে এবং তার নাম দেয় 'অরুন্ধতী গোল্ড স্কিম'। আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক থেকে যারা পিছিয়ে তারাই পেতে পারে স্কিমের সুবিধা। স্কিম অনুযায়ী একজন পেতে পারেন ১০ গ্রাম সোনা। ২০১৯-২০ সালে এই স্কিমের জন্য আসাম সরকার ৩০০ কটি টাকা বরাদ্দ করে। 'অরুন্ধতী গোল্ড স্কিম' -এর নিয়ম অনুসারে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা একজন বিয়ের কনেকে সরকার থেকে সোনা দেওয়া হবে। তবে সরকারি নিয়ম অনুসারে সেই পরিবারের এক বছরের আয় হতে হবে ৫ লক্ষ টাকা বা তার থেকে কম, আর তাহলেই আবেদন করা যাবে এই স্কিমের জন্য। সেই সঙ্গেই অরুন্ধতী প্রকল্পটি পরিবারের প্রথম দুই সন্তানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অরুন্ধতী প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে কনের বয়স হতে হবে কমকরে ১৮ এবং বরের বয়স ২১। বয়স যাচাই করতে জন্ম শংসাপত্র যাচাই করে দেখবে সরকার এছড়াও সব নথি-পত্র যাচাই করার পরই একজন পেতে পারে এই স্কিমের সুবিধা। এছাড়াও সরকার রাজ্যের এমন সমস্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত নববধূদের সোনা দেবে, যাদের মধ্যে বিয়ের সময় স্বর্ণ সরবরাহ করার রীতি রয়েছে।

আবেদনকারীর বিবাহ বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪ এর অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে। আবেদনকারী মেয়েটি যেদিন রেজিস্ট্রির জন্য নাম নথিভুক্ত করবে সেই দিনই তাঁকে অরুন্ধতী স্বর্ণ প্রকল্পের জন্যেও আবেদন করতে হবে। আবেদনকারী কেবল তার প্রথম বিবাহের জন্য এই সুবিধাটি পাবে। দ্বিতীয়বার বিবাহ করলে সে এই সুযোগ আর পাবে না। বর এবং কনে দু'জনকেই কম করে এইচএসএলসি উত্তীর্ণ হয়ে থাকতে হবে। তবে চা শ্রমিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয় কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বেশি লেখা-পড়া করার সুযোগ পায়না।

অরুন্ধতী প্রকল্পে আবেদনের পদ্ধতি-

আবেদনকারী বিশেষ বিবাহ আইন, ১৯৫৪ -এর অধীনে বিয়ের রেজিস্ট্রির জন্য আবেদনের দিন অরুন্ধতী স্বর্ণ প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীকে নিজে গিয়ে রেজিস্ট্রির আবেদনের একটি কপি সহ এই স্কিমের জন্য আবেদন করতে হবে।
অরুন্ধতী প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে অনলাইনেও আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদন ফর্মটি revenueassam.nic.in লিঙ্কে পাওয়া যাবে।
আবেদনের ফর্মটি জমা করার পর আবদনকারীকে তার একটি প্রিন্টআউট কপিও রাখতে হবে নিজের কাছে।
আবেদনকারীকে ফর্মের প্রিন্টআউট নিতে হবে, সেই প্রিন্টআউট কপিতে স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় নথি-পত্র সহ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে নিজেকেই জমা দিতে হবে।
আবেদনকারী তার আবেদন জমা দেওয়ার সময় একটি রশিদ পাবেন।
পরে এসএমএস -এর মাধ্যমে সমস্ত তথ্য দিয়ে দেওয়া হবে আবেদনকারীকে।

স্কিমে আবেদনকারীদের ১০ গ্রাম সোনা কেনার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তার সবটাই তার ব্যাঙ্কে পাঠিয়ে দেবে সরকার। এই প্রকল্প সরকারের পক্ষ থেকে একটা উপহার বলাই যায়, যা বিয়ের চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে মেয়েদের।