সরস্বতী পুজোয় কেন বাসন্তী রং পরা হয়? জানুন হলুদ রঙের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণ

সরস্বতী পুজো মানেই ছাত্রছাত্রীদের উচ্ছ্বাস, বইখাতা, ফুল আর সাদা–হলুদের আবেশ। এই দিনটিতে বেশিরভাগ মানুষই বাসন্তী বা হলুদ রঙের পোশাক পরেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, সরস্বতী পুজোয় কেন বিশেষ করে বাসন্তী রং পরার রীতি রয়েছে? এর পিছনে আছে ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রকৃতির ছোঁয়া আর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। বসন্তের প্রতীক বাসন্তী রং সরস্বতী পুজো সাধারণত বসন্ত ঋতুর শুরুতেই হয়। বসন্ত মানেই নতুন জীবন, নতুন আশা আর প্রাণের উচ্ছ্বাস। প্রকৃতিতে তখন শিমুল, পলাশ, সরষের হলুদ রং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বাসন্তী রং আসলে সেই বসন্তেরই প্রতীক। তাই এই দিনে বাসন্তী রং পরা মানে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নেওয়া। দেবী সরস্বতীর সঙ্গে রঙের যোগ শাস্ত্র মতে, দেবী সরস্বতী বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার অধিষ্ঠাত্রী। হলুদ বা বাসন্তী রং জ্ঞান, আলোক ও পবিত্রতার প্রতীক। এই রং মনকে শান্ত করে এবং মনোযোগ বাড়ায়। তাই দেবীর আরাধনায় এই রঙের গুরুত্ব আলাদা। বিশ্বাস করা হয়, বাসন্তী রং পরলে দেবীর কৃপা সহজে লাভ করা যায়। মানসিক প্রভাবও রয়েছে বাসন্তী বা হলুদ রং মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই রং দেখলে মন হালকা হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। যেহেতু সরস্বতী পুজো মূলত ছাত্রছাত্রীদের উৎসব, তাই এই রং তাদের মনোযোগ ও সৃজনশীলতাকে বাড়াতে সাহায্য করে। ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতি বাংলায় বহু বছর ধরেই সরস্বতী পুজোয় সাদা–হলুদ বা বাসন্তী পোশাক পরার চল রয়েছে। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ঐতিহ্যও। একে অপরের সঙ্গে রঙের মিল উৎসবের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। স্কুল-কলেজে, বাড়িতে কিংবা পাড়ার পুজো—সব জায়গাতেই বাসন্তী রঙের আধিপত্য দেখা যায়।

 প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন সরস্বতী পুজো আসলে প্রকৃতি আর সংস্কৃতির মিলন। বসন্তের রঙ, দেবীর আরাধনা আর মানুষের আবেগ—সব মিলিয়ে বাসন্তী রং হয়ে ওঠে এই উৎসবের প্রাণ। তাই শুধু সাজের জন্য নয়, মন ও সংস্কৃতির কারণেই এই দিনে বাসন্তী রং পরা হয়। উপসংহার সরস্বতী পুজোয় বাসন্তী রং পরা কোনও ফ্যাশন নয়, এটি এক গভীর অর্থবহ ঐতিহ্য। বসন্তের উষ্ণতা, জ্ঞানের আলো, ইতিবাচক মনোভাব ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য—সবকিছুর প্রতীক এই রং। তাই সরস্বতী পুজো এলেই বাসন্তী রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বাংলা।