সামনেই পুজো, এই পুজোতে অনেকেই ভীরে ঠাকুর দেখতে যাওয়া একদম পছন্দ করেননা। তাই পুজোতে ঠাকুর না দেখে অনেকেই সেই ছুটি কাজে লাগিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। পুজোতে ছুটিও বেশ কয়েক দিনের থাকে, ফলে যারা ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন তারা এই সময়টাকেই বেছে নেন ঘুরতে যাওয়ার সময় হিসাবে। তাই এই ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাবেন ভাবছেন? তবে বেছে নিতেই পারেন এর মধ্যে থেকে একটি জায়গা। জায়গাগুলো দেশের মধ্যে হলেও অনেকেরই অজানা। বাজেট যদি কমও থাকে তাতেও চিন্তা করার কিচ্ছু নেই। খুব কম খরচেই ঘুরে আসা যায় এই জায়গা গুলি থেকে। থাকলো এই রকমই পাঁচটি জায়গা।

স্পিতি, হিমাচল প্রদেশ: ১৪ হাজার ৯৩১ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই জায়গাটি। যদি ট্রেকিং বা ক্যাম্পিং করতে পছন্দ করেন তাহলে এখানে পূজোর কটাদিন কাটিয়ে আসতে পারেন। এখানকার গ্রাম গুলিও বেশ অন্যরকম, যদি চান সেখানে গিয়েও কিছুদিন কাটিয়ে আসতে পারেন। সেখানকার ভালো হতে বাধ্য। তাই কিছুদিন কাটিয়ে আসুন সেখান থেকেই। আপনার এই ঘুরতে যাওয়াটাকে আরও স্মরনীয় করে তুলতে সেখান থেকে সাইকেলে করে মানালি যেতে পারেন। যা একদম একটা অন্যরকম অনুভুতি তৈরি করবে।

চোপটা, উত্তরাখন্ড: উত্তরাখন্ডে অনেকেই গেছেন, কিন্তু উত্তরাখন্ডের চোপটাতে গেছেন কী? যদি না গিয়ে থাকেন তবে একবার গিয়ে দেখতেই পারেন এই জায়গাটিতে। যদি শান্ত নিরিবিলি জায়গা আপনার পছন্দের হয় তবে চলে যেতেই পারেন এখানে। লোকালয়ের থেকে বেশ কিছুটা দূরে এই জায়গাটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য আদর্শ জায়গা বলা যেতে পারে। চোপটা উপত্যকার পঞ্চ কেদারের অন্যতম তীর্থস্থান তুঙ্গানাথ মন্দিরের প্রবেশ পথ। এছাড়াও এখানে একটি অভয়ারণ্য আছে। সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ মন ভালো করার জন্য একদম আদর্শ জায়গা।

বুন্দি, রাজাস্থান: রাজাস্থানে গিয়ে থাকেন সকলেই কিন্তু রাজস্থানের বুন্দি -তে গেছেন কি কখনও? যদি না গিয়ে থাকেন তাহলে একবার ঘুরে আসুন রাজাস্থানের এই জায়গাটি থেকে। ১২ শতকের এই জায়গাটিতে অনেক পুরনো মহল আছে এছাড়াও সেখানে অনেক দূর্গ থেকে শুরু করে অসংখ্য মন্দির আছে। যদি ঐতিহাসিক স্থান আপনার পছন্দ হয় তবে একবার ঘুরে আসুন এখান থেকে। এই শহরটিকে একটি মরুভূমির শহরও বলা যেতে পারে। বুন্দি উৎসব এখানকার একটি জনপ্রিয় উৎসব যা এখানে প্রতি বছর নভেম্বরে হয়ে থাকে। সেই সময়ে নানা রঙে সেজে ওঠে রাজস্থান। ফলে যদি সম্ভব হয় তবে সেই সময়টাকেই ঘুরতে যাওয়ার সময় হিসাবে বেছে নিতে পারেন এক অন্য স্বাদের আনন্দ উপভোগ করতে। তবে পূজোর ছুটি কাটাতে সেখানে গেলেও মন্দ হবেনা। 

তাওয়াং, অরুনাচল প্রদেশ: ছবির মত সাজানো গোছানো এই শহরটি পাহাড় প্রেমীদের জন্য একবারে আদর্শ একটি জায়গা। এখানে গেলে দেখা মিলবে বৌদ্ধ মন্দিরেরও। এই স্থানটি ষষ্ঠ দালাই লামার জন্ম স্থান হিসাবে পরিচিত। এই স্থানটিতে  নুরানাং নামের একটি ঝর্ণাও এবং পাঙ্কং টেং তসো নামের একটি লেক আছে। ঝর্ণা থেকে শুরু করে মন্দির সব কিছুর স্বাদ একসঙ্গে পেতে একবার এখানে যেতেই হবে।

   

ভারকালা, কেরালা: সমুদ্র বলতেই বাঙালিদের মাথায় যে জায়গা গুলোর নাম আসে তার মধ্যে দীঘা, পুরী অন্যতম। তবে এই দীঘা, পুরী-র বাইরেও অসংখ্য সমুদ্র সৈকত আছে। সেই রকমই একটি সমুদ্র সৈকত কেরালার এই ভারকালা সমুদ্র সৈকত। এই স্থানটি কোরালার একজন সাধু নারায়ণ গুরুর সমাধির জন্য জনপ্রিয় এছাড়াও এখানে একটি ঝর্ণা আছে। এমনকি সেখানে পাহাড়ও আছে। একসঙ্গে সব কিছুর মজা পেতে একানে একবার যেতেই হবে। এক কথায় বলতে গেলে এই শহরটি স্বর্গের থেকে কোনও অংশে কম না।