করোনাভাইরাসের আবহে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ( আরবিআই ) তিন মাস ধরে লোনের ইএমআই স্থগিতের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের কোনও ইএমআই বা ঋণ দিতে হবে না। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যখন দেশব্যাপী তালাবদ্ধ, এমন পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আর্থিক সমস্যার সম্মুখীণ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই লকডাউনের সময় ঋণ প্রদান বা ইএমআই স্থগিত করার কথা ভাবছেন? তবে এর জন্য গ্রাহকদের একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ভুয়ো ব্যাঙ্কিং ফোন কল এবং মেসেজ এর থেকে। এর কারণ সর্বভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু হ্যাকার করোনাভাইরাসের এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সেই সমস্ত গ্রাহকদের ফোন করছেন তাঁদের ইএমআই স্থগিত করার সাহায্য করার জন্য।

আরও পড়ুন- হাসপাতাল না পারলেও গুরুতর শারীরিক অবস্থার কথা জানান দিল অ্যাপেল ওয়াচ, প্রাণে বাঁচলেন বৃদ্ধা

এই ধরণের ফোন কলগুলি করা হচ্ছে ব্যাঙ্কের সহায়ক হিসেবে। যারা ফোন করে বলছেন, আপনার ইএমআই দেওয়া স্থগিত করার জন্য ব্যাঙ্কের তরফ থেকে ফোন করা হয়েছে। এরপরেই গ্রাহকদের থেকে তার ব্যাঙ্কিং তথ্য নিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে আইসিআইসিআই, এসবিআই , অ্যাক্সিক ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যঙ্কগুলি তাঁধের গ্রাহকদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দিচ্ছে। কোনও ভাবেই ব্যাঙ্কের থেকে তাঁর গ্রাহকদরে ব্যাঙ্কের ডিটেইলস ফোন করে জানতে চাওয়া হয় না। এই সংক্রান্ত কোনও ফোনকল বা ম্যাসেজ আসলে, তার উত্তর না দিয়ে, সরাসরি প্রশাসনের কাছে জানান।

আরও পড়ুন- করোনা আবহেও শিশুদের দিতেই হবে এই ভ্যাকসিনগুলি, পরামর্শ হু-এর

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই জালিয়াতির জন্য রীতিমতো কল সেন্টার থেকে ফোন করা হয় গ্রাহকদের কাছে। এরপর তাঁদের থেকে  ওটিপি এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড চেয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অর্থ তছরূপের ঘটনা ঘটে থাকে। তাই গ্রাহকদের যদি ব্যাঙ্কের বিষয়ে কোনও তথ্য জানার থাকে সাহায্যের প্রয়োজন হয়, লকডাউনের সময় সরাসরি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এরজন্য ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড করে কাজ সারুন। কখনোই কোনও ফোন কলে আপনার ব্যাঙ্কের নথি পিন, অ্যাকাউন্ট নম্বর, ওটিপি শেয়ার করবেন না। আর যদি ইতিমধ্যে এই প্রতারণার ফেঁসে গিয়েছেন তবে অবিলম্বে তাদের নম্বর বা লিঙ্কগুলি ব্যাঙ্ককে অবহিত করা উচিত এবং অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধ করার জন্য ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করা উচিত।