এক সময়ে মিষ্টির দোকানে আলাদা কৌলিন্য় ছিল লবঙ্গ লতিকার। এখনও তা পাওয়া যায় বটে, তবে তার কৌলিন্য় অনেক কমেছে। শুধু তো মিষ্টিতেই নয়, ছোটবেলায় দাঁতের যন্ত্রণার অব্য়র্থ  ওষুধ হিসেবে কে-না চিবিয়েছি লবঙ্গ।

ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল সমৃদ্ধ এক চা-চামচ বা দুগ্রামের মতো লবঙ্গে থাকে ২১ ক্য়ালোরি। থাকে কার্বোহাইড্রেট ১ গ্রাম, ফাইবার ১ গ্রাম। থাকে ম্য়াঙ্গানিজ, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-সি, অল্প পরিমাণে ক্য়ালশিয়াম, ম্য়াগনেশিয়াম ও ভিটামিন-ই। ফাইবার যেহেতু থাকে তাই লবঙ্গ কোষ্ঠকাঠিন্য় কমাতে সাহায্য় করে। লবঙ্গে থাকা ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভিটামিন-কে রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমরা জানি ম্য়াঙ্গানিজ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এবং হাড়কে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। লবঙ্গে থাকে এই  মহার্ঘ মিনারেলটি। লবঙ্গে থাকা অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। যার ফলে ক্রনিক ডিজিজের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে লবঙ্গ। এতে থাকে প্রাকৃতিক অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট ইউজেনল। এছাড়াও থাকে ভিটামিন-সি। এই দুই উপাদানই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লবঙ্গে থাকা কিছু উপাদান ক্য়ানসার প্রতিরোধ করে। একটি টেস্টটিউব স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, টিউমারের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে সাহায্য় করে লবঙ্গের নির্যাস। এবং এই নির্যাস ক্য়ানসার কোষকেও মেরে ফেলে।

অন্য় আরেকটি টেস্টটিউব স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, লবঙ্গের তেল,  ইসোফেজিয়াল ক্য়ানসার সেলের আশি শতাংশ কোষকে মেরে ফেলতে পেরেছে। লবঙ্গে থাকা ইউজেনলে থাকে অ্য়ান্টি ক্য়ানসার উপাদান, এমনটাও দেখা গিয়েছে।

আমাদের মুখ গহ্ববরের স্বাস্থ্য় বা ওরাল হেলথের পক্ষেও খুব উপকারী এই লবঙ্গ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লবঙ্গে থাকা কিছু উপাদান আমাদের মাড়ির অসুখের জন্য় দায়ী দুধরনের ব্য়াকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে।  লবঙ্গ দিয়ে তৈরি ভেষজ মাউথ ওয়াশ মোটামুটি তিনসপ্তাহ ব্য়াবহার করলে মাড়ি ভাল থাকে। এমনকি লবঙ্গে থাকা কিছু উপাদান আমাদের লিভারকেও সুরক্ষিত রাখে।