শীতকাল ফুরলো বলে। শেষবেলায় চুটিয়ে খেয়ে নিন গাঁজর। সত্য়ি তো, শীতকাল চলে কি আর গাঁজরের হালুয়ার আস্বাদ আস্বাদন করে মজা পাওয়া যায়। তবে শুধু হালুয়াই নয়, গাঁজর দিয়ে তৈরি করা যায় হাজারো পদ।

দুটো ছোট থেকে মাঝারি মাপের গাঁজর, যার মোট ওজন ১০০ গ্রামের মতো হবে, তার থেকে পাওয়া যায়. ৪১ ক্য়ালোরি। এতে জলের পরিমাণ থাকে ৮৮ শতাংশ। প্রোটিন ০.৯ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৯.৬ গ্রাম,  সুগার ৪.৭ গ্রাম, ফাইবার ২.৮ গ্রাম এবং ফ্য়াট থাকে ০.২ গ্রাম থাকে। গাঁজরে বেশি থাকে জল ও কার্বোহাইড্রেট। এর কার্বোহাইড্রেটে স্টার্চ, সুক্রোজ ও গ্লুকোজ জাতীয় সুগার  থাকে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম। তাই  ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন গাঁজর। গাঁজরে থাকে পেকটিনজাতীয় সলিউবেল ফাইবার। যা সুগার ও স্টার্চজাতীয় খাবার ধীর গতিতে হজম করিয়ে ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য় করে।  গাঁজরে থাকা ফাইবারের মধ্য়ে সেলুলোজ, হেমি সেলিলোজ ও লিগনিন থাকে। এই ফাইবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য় কমায়। ভিটামিন ও মিনারেলের উৎস এই গাঁজর। গাঁজরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিটা ক্য়ারোটিন থাকে, যা ভিটামিন-এ নামে পরিচিত। চোখের দৃষ্টি, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শরীরের বাড়বৃদ্ধির জন্য় খুব জরুরি এই গাঁজর। গাঁজরে থাকা বায়োটিন আমাদের ফ্য়াট ও প্রোটিন পরিপাক করতে সাহায্য় করে। ফাইলোকুইনন, যা ভিটামিন-কে-১ নামে পরিচিত, তা-ও থাকে গাঁজরে। এটি আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্য় ও রক্ত জমাট বাঁধায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকে পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। গাঁজরে থাকা ভিটামিন-বি-৬ খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনের সহায়তা করে।

গাঁজরে থাকা ক্য়ারোটিনয়েড প্রোস্টেট, কোলন, স্টম্য়াক ও মহিলাদের ব্রেস্ট ক্য়ানসারে ঝুঁকি কমায়। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে গাঁজর। ওজন কমাতে চাইলেও লো-ক্য়ালোরির এই সবজি খান নিয়মিত।