ব্য়থা হলেই টুক করে পেনকিলার মুখে পুড়ে দেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্য়েস।  কিন্তু এতে করে দু-ধরনের বিপদ অপেক্ষা করে থাকে। এক , পেনকিলারের সাহায্য়ে ধামাচাপা দেওয়ার ফলে দীর্ঘদিন চাপা থেকে যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ রোগ। পরে যখন তা ধরা পড়ে, অনেক দেরি হয়ে যায়। আর দুই হল, মাত্রাতিরিক্ত পেনকিলার শরীরে অনেক জটিলতা তৈরি করে। যা হয়তো আমাদের অনেকেরই জানা।

ধরা যাক আপনার মাথা যন্ত্রণা করে ঘনঘন। আর আপনি কথায়-কথায় পেনকিলার খেয়ে নিয়ে সমস্য়ার মোকাবিলা করেন। কিন্তু বলতে নেই, হয়তো এই যন্ত্রণা হচ্ছে ব্রেন টিউমর থেকে। দীর্ঘদিন পেনকিলারে আপনি চাপা দিয়ে রাখলেন বটে, তবে পরে যখন তা ধরা পড়ল, তখন ওই টিউমার অনেক পরিণত রূপ ধারণ করল।

হতে পারে, ডাস্ট বা কোল্ড অ্য়ালার্জি থেকে আপনার মাথা ভার হয়ে থাকে সবসময়ে। সামান্য় কিছু ওষুধ বা ড্রপ দিলেই যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। অথচ গুচ্ছের পেনকিলার খেয়ে আপনি সেই মাথা ব্য়থা কমাতে চাইলেন। তাতে করে আপনি পেলেন দীর্ঘমেয়াদী আরাম, না-হল আপনার সমস্য়ার সমাধান।

পেটের ব্য়থার ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অনেক বিশেষ ধরনের পেনকিলার খেয়ে সমস্য়ার মোকাবিলা করছেন। যদিও এখন কিছু লোক সচেতন হয়েছেন, সে কথা অন্য়। মোটের ওপর দেখা যায়, পেটব্য়থা হলেও হয় পেনকিলার, নয় অ্য়ান্টাসিড খেয়ে সমস্য়া সামাল দিচ্ছেন। এতে করে অসুখ কিন্তু ধামাচাপ পড়ে যাচ্ছে। হতে পারে আলসার থেকে পেটব্য়থা করছে, হতে পারে গলস্টোন থেকে, হতে পারে লিভারের কোনও গুরুতর সমস্য়া থেকে পেটব্য়থা হচ্ছে। গুচ্ছের অ্য়ান্টাসিড আর পেনকিলার খেয়ে আপনি দীর্ঘদিন ধরে রোগ পুষে রাখলেন। অথছ রোগ যখন বেরোল, তখন তা অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে।

অনেকে বুকের কাছে চিনচিনে ব্য়থা হলেও গ্য়াসের সমস্য়া ভেবে দু-একটা বড়ি খেয়ে নেন।  এক্ষেত্রে একবার ডাক্তারের কাছে যে যাওয়া উচিত, সত্য়িই ওই ব্য়থা গ্য়াস থেকে কিনা, তা নিয়ে একবার নিশ্চিন্ত হয়ে নেওয়া দরকার, তা আপনি বুঝলেন না। যখন বুঝলেন তখন হয়তো খুব দেরি হয়ে গেল। মনে রাখবেন, দীর্ঘদিনের মাথার ব্য়থা বা পেটের ব্য়থা কিন্তু কোনও খারাপ রোগের উপসর্গ  হতে পারে। প্রথমদিকে সেই রোগ ধরা পড়লে আপনারই সুবিধে। দেরিতে ধরা পড়লে বিপদ আপনারই।

এছাড়া, পেনকিলার থেকে গ্য়াস্ট্রিকের সমস্য়া তো নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে পেনকিলার খেয়ে গেলে পেটের সমস্য়া হতেই পারে। এমনকি, অ্য়ান্টাসিড ছাড়া পেনকিলার খেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি হয়েছে, এমন উদাহরণও বিরল নয় কিন্তু। তাই যন্ত্রণা কমাতে পেনকিলার খেতেই পারেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, শরীরের ওই জায়গায় কি নিয়মিত যন্ত্রণা হচ্ছে। যদি তা হয়, তাহলে একবার  ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করে নিন।  তিনিই আপনাকে বলে দেবেন, শরীরে কোনও বড় রোগ বাসা বেঁধে রয়েছে কিনা।  আর তা না-থাকলে, কোন পেনকিলার আপনার শরীরের পক্ষে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হবে।