গরমে যতই কষ্ট হোক, সু্স্বাদু ফলের সময় বলতে গ্রীষ্মকালকেই বোঝায়। এই সময়ে তেল, মশলা, ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের থেকেও ফলই যেন বেশি রসনা তৃপ্ত করে। আর এদের মধ্যে কাঁঠালের জুড়ি মেলা ভার। কাঁঠালের পাগল করা গন্ধেই অর্ধেক পেট ভরে যায়। আর আজকাল কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন রকমের ডেজার্টও তৈরি হচ্ছে। 

তবে শুধু স্বাদে নয়, উপকারের দিক থেকেও এই ফল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। কিন্তু এর উপকার সম্পর্কে তেমন অবহিত নয় মানুষ। তাই শুধু স্বাদের জন্যই কাঁঠালের কথা ওঠে। কিন্তু এর মধ্য়ে রয়েছে বেশ কিছু গুণ। জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী- 


১) কাঁঠাল ফাইবার-সমৃদ্ধ ফল। এই ফাইবারই হজম শক্তি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে কাঁঠাল খেলে হজম শক্তি ঠিক থাকে এবং পেটও পরিষ্কার থাকে। 

২)  কাঁঠালে রয়েছে সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম। এই উপাদান শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। শুধু তাই নয় এই ফল হৃদযন্ত্র বাল রাখতেও সাহায্য করে।

৩) রক্তাল্পতার মহৌষোধি হিসেবে কাজ করে কাঁঠাল।  কাঁঠালে আয়রন থাকে যা রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় যাঁরা ভুগছেন তাঁদের তাই কাঁঠাল খাওয়া উচিত।

৪) ত্বক ভাল রাখতেও কার্যকরী গ্রীষ্মের এই ফল। কাঁঠালে অ্যান্টি অক্সিড্য়ান্ট থাকার ফলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। বলিরেখাও কমে অনেকটাই। 

৫) অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফল কাঁঠাল। এতে ভিটামিন সি থাকে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই কাঁঠাল খেলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। এমনকী ক্যানসার এবং টিউমারের বিরুদ্ধেও শরীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। 

৬) এই ফল নিয়মিত খেলে পাইলস এবং কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে। 

৭) কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন বি৬ এবং প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি। তাই যাঁরা আন্ডারওয়েটের সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা কাঁঠাল খান এই গরমে। তবে এতে কোনও রকম কোলেস্টেরল নেই। 

৮) ডায়াবিটিসের রোগীদের মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হয়। কিন্তু রোগের জন্য তা হয়ে ওঠে না। কাঁঠাল মিষ্টি হলেও, ডায়াবিটিস বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই ডায়াবিটিসের রোগীরা কাঁঠাল খেতে পারেন। কতটা খাবেন, সে ব্যাপারে ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ নিন.

 ৯) এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন। চোখ ভাল রাখতে ভিটামিন এ কতটা উপকারী সকলের জানা। তাই জমিয়ে এই গরমে কাঁঠাল খান।