একটা সময় ছিল, যখন আইকিউ সম্বন্ধে ধারণা থাকলেও, ইকিউ ব্য়াপারটা সম্বন্ধে আমরা সেভাবে কিছুই জানতাম না। কিন্তু এখন আমরা জেনে গিয়েছি ইকিউ কী, কেন এবং কোথায় এর প্রয়োজন পড়ে। এই ইকিউ হল ইমোশনাল ইনটেলিজেন্ট। আজকাল কর্পোরেট চাকরির জায়গায় গেলে ওরা মেপে নেবে আপনার ইকিউ।  

আসলে সাফল্য়ের সমার্থক হিসেবে এতদিন ভাবা হত আইকিউকে। এই আইকিউ বুদ্ধি মাপার  একটি প্রক্রিয়া। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উইলিয়াম স্টার্ন ইনটেলিজেন্ট কোশেন্ট বা আইকিউয়ের একটি ধারণা দেন। এই আইকিউকেই পরবর্তীকালে বাংলায় বলা হতে লাগল, বুদ্ধ্য়ঙ্ক। ১৯০৫ সালে অ্য়ালফ্রেড বাইনেট আর থিয়োডোর সিমোন বুদ্ধি পরিমাপ করার পদ্ধতি তৈরি করেন।  যার আইকিউ যত বেশি, জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তার তত বেশি।

কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গেল, বিষয়টা অনেকটা ঠিক হলেও পুরোটা কিন্তু ঠিক নয়। শুনলে অবাক লাগলেও এটাই সত্য়ি যে, অনেক সময়ে দেখা গিয়েছে আইকিউ একটু কম নিয়েও জীবনে অনেক বড় জায়গায় পৌঁছেছে অনেকে। আবার তার উল্টোটাও হয়েছে। যেমন আইকিউ অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও জীবনে সেভাবে কোথাও পৌঁছতে পারেনি কেউ।

এর কারণটা নিহিত রয়েছে ইকিউ বা ইমোশনাল ইনটেলিজেন্সের মধ্য়ে। বড় বড় সংস্থাগুলো দেখতে চায়, শুধু বুদ্ধি বা মেধা থাকাটাই বড় কথা নয়, যাকে তারা নিয়োগ করছে সে কতটা অন্য়দের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে পারবে। কাজের জায়গায় সে কতটা মানিয়ে নিতে পারবে। তার সহকর্মীদের কতটা অনুভব করতে পারবে সে। সর্বোপরি কতটা মানিয়ে চলতে  পারবে সে সবার সঙ্গে।

অনেক সময়ে দেখা গিয়েছে, আইকিউ খুব বেশি হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ ইকিউ কম থাকার জন্য় চাকরির জায়গায় কেউ ওপরে উঠতে পারেনি। আবার উল্টোটাও দেখা গিয়েছে। আইকিউ কম নিয়েও অনেক ওপরে ওঠা সম্ভব হয়ছে, স্রেফ ইকিউয়ের জেরে।  আর তাই তো বলা হয়, এই ইকিউ বা আবেগজনিত বুদ্ধিমত্তা কোনও ব্য়ক্তির  চরিত্র, ব্য়ক্তিত্ব, দক্ষতা, সাফল্য়কে ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্য়দিকে বুদ্ধ্যঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করে ২৫ শতাংশ মাত্র।