মুখের ভিতরের ঘা সারানো থেকে শুরু করে রান্নার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় পুরনো ঘি। এই শীতে আবহাওয়ার রুক্ষ ও কর্কশ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ঘি দিয়ে ত্বকচর্চা করে দেখুন।

ঘি ত্বকের জন্য অসাধারণ, কারণ এতে থাকা ভিটামিন A, D, E ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্র রাখে, জেল্লা ফেরায়, বলিরেখা কমায় এবং দূষণ থেকে রক্ষা করে। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বক নরম ও মসৃণ করে, কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে, এমনকি পুরনো ঘি-ও ব্যবহার করা যায় যা ত্বককে পুষ্টি দেয় ও তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে ব্যবহারের আগে অল্প পরিমাণে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

ঘি ব্যবহারের উপকারিতা:

* প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার: ঘি ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্রতা জোগায় এবং ত্বক নরম ও কোমল রাখে। বিশেষত শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুব উপকারী।

* জেল্লা ও উজ্জ্বলতা: ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে ঘি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং দাগছোপ কমাতে সাহায্য করে।

* অ্যান্টি-এজিং: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক।

* কালো দাগ ও ফোলা ভাব কমায়: চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলাভাব কমাতে ঘি ব্যবহার করা হয়, যা এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণের জন্য সম্ভব হয়।

* ত্বক পরিষ্কার করে: এটি হালকা ক্লেনজার হিসেবে কাজ করে, যা ময়লা ও মেকআপ দূর করতে সাহায্য করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন:

১. ময়েশ্চারাইজার হিসেবে: রাতে ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণ ঘি মুখে আলতো করে ম্যাসাজ করুন এবং সকালে ধুয়ে ফেলুন।

২. ফেসপ্যাক: ঘিয়ের সঙ্গে মধু, অ্যালোভেরা জেল, বা হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৩. ঠোঁটের জন্য: ফাটা ঠোঁটে ঘি লাগালে তা নরম ও মসৃণ হয়।

৪. কালো দাগের জন্য: নির্দিষ্ট কালো দাগ বা স্পট-এর উপর অল্প ঘি লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।

পুরনো ঘি ব্যবহার:

* পুরনো ঘি (যাকে 'সিদ্ধ ঘি' বলা হয়) ত্বকের জন্য খুবই উপকারী, কারণ সময়ের সাথে সাথে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে এবং এটি ত্বকের গভীরে পৌঁছে ভালো ফল দেয়।

* বিশুদ্ধ ও ভালো মানের দেশি ঘি ব্যবহার করা উচিত।

সতর্কতা:

* প্রথমবার ব্যবহারে ত্বকের ছোট অংশে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন, বিশেষত যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল হয়, যাতে কোনো অ্যালার্জি না হয়।