শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন উৎপাদন করে থাইরয়েড গ্রন্থি।

শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন উৎপাদন করে এই থাইরয়েড গ্রন্থি। শরীরের বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় কার্যকলাপের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দুই ধরনের থাইরয়েড সমস্যা দেখা যায়- হাইপারথাইরয়েডিজম এবং হাইপোথাইরয়েডিজম। শরীর যখন অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করে তখন হাইপারথাইরয়েডিজম হয়। অন্যদিকে, শরীর যখন খুব কম থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করে তখন হাইপোথাইরয়েডিজম হয়। থাইরয়েডের স্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতার জন্য বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান সহায়ক। থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলি কী কী তা দেখে নেওয়া যাক।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. আয়োডিন

থাইরয়েড হরমোনের প্রধান উপাদান হল আয়োডিন। আয়োডিনের অভাব থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি প্রধান কারণ হল আয়োডিনের অভাব। এর ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া, বিষণ্ণতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। মাছ, দুগ্ধজাত খাবার, আয়োডিনযুক্ত লবণ ইত্যাদি খাওয়া উপকারী।

২. সেলেনিয়াম

সেলেনিয়ামের অভাব হাইপোথাইরয়েডিজমের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। ব্রাজিল বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ ইত্যাদিতে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়।

৩. ভিটামিন ডি

থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। দুধ, দই, মাখন, পনির, ডিম, কমলালেবুর রস, স্যালমন মাছ, মাশরুম, গম, রাগি, ওটস, কলা ইত্যাদি ভিটামিন ডি এর ভালো উৎস।

৪. আয়রন

আয়রনের অভাব থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন কমাতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজম প্রতিরোধে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান। পালং শাক, ব্রোকলি, বিট, ডালিম, খেজুর, চিয়া বীজ ইত্যাদিতে আয়রন পাওয়া যায়।

৫. জিঙ্ক

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার থাইরয়েডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। শিম জাতীয় খাবার, পালং শাক, বাদাম, বীজ, দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, অ্যাভোকাডো, ডিম, রসুন ইত্যাদিতে জিঙ্ক পাওয়া যায়।

৬. ম্যাগনেসিয়াম

ম্যাগনেসিয়ামের অভাব থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। কুমড়োর বীজ, কলা, পালং শাক, শিম জাতীয় খাবার, বাদাম, কাজুবাদাম, চিয়া বীজ, ফ্ল্যাক্স বীজ, ডার্ক চকলেট, লাল চাল, দই, তিল, অ্যাভোকাডো ইত্যাদিতে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।