প্রাচীন কাল থেকেই গ্রিস ও মিশরে ক্ষত সারানোর কাজে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে।মধু একটি উচ্চ ওষধিগুণ সম্পন্ন ভেষজ তরল। এতে রয়েছে একাধিক রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা। মধুর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি।  বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মধু ও দারচিনির মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। পিত্ত থলির সংক্রমণ রোধ করতে, বাতের ব্যথায়, মুখের দুর্গন্ধ কাটাতে, এমনকি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও মধু খুবই কার্যকরী উপাদান।

আরও পড়ুন, বছর শেষে জাঁকিয়ে শীত, ভিড় জমল রাজ্যে পাঁচ ঐতিহ্যবাহী ক্যাফে-তে

 মধু কখনও নষ্ট হয় না। কিন্তু কী করে জানবেন যে মধুটি খাঁটি কিনা। এখন বাজারে নানা ধরনের মধু পাওয়া যায়। কখনওবা সুন্দরবনের খাঁটি মধুর নাম দিয়ে ভেজাল, রাসায়নিকযুক্ত উপাদান বিক্রি করাও হয়। শুধু তাই নয়, অনেক নামী সংস্থার প্রক্রিয়াজাত মধুতেও মেলে ভেজাল। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক খাঁটি মধু চিনে নেওয়ার কয়েকটি সহজ উপায়।

১) এক টুকরো সাদা কাপড়ে মধু মাখান। আধ ঘণ্টা রাখুন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি দাগ থেকে যায়, বুঝবেন মধুটি খাঁটি নয়। শীতের দিনে বা ঠান্ডায় খাঁটি মধু দানা বেঁধে যায়।

২) মধুর স্বাদ হবে মিষ্টি, এতে কোনও ঝাঁঝালো ভাব থাকবে না। মধুতে কখনও কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়।

৩)  মোমবাতির সলতে নিয়ে মধুতে ডুবিয়ে  আগুন দিয়ে জ্বালানোর চেষ্টা করুন। যদি জ্বলে ওঠে, তাহলে বুঝবেন যে মধু খাঁটি। আর যদি না জ্বলে, বুঝবেন যে মধুতে জল মেশানো আছে।

আরও পড়ুন, নাক ডাকলেই কিন্তু ভাল ঘুম হয় না, জানুন স্বপ্ন দেখার আসল ফান্ডা


৪) অনেকদিন ঘরে রেখে দিলে মধুতে চিনি জমতেই পারে। কিন্তু যদি পাত্র সহ মধু গরম জলে কিছুক্ষণ রেখে দেখুন। এই চিনি গলে মধু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু নকল মধুর ক্ষেত্রে এটা হবে না।

৫) এক টুকরো ব্লটিং পেপার নিয়ে  তাতে কয়েক ফোঁটা মধু দিন। যদি কাগজ তা সম্পূর্ণ শুষে নেয়, বুঝবেন মধুটি নকল আছে।


৬) গ্লাসে বা পাত্রে খানিকটা জল নিন। তার মধ্যে এক চামচ মধু দিন। যদি মধু জলের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন যে এটা অবশ্যই নকল। আসল মধুর ঘনত্ব জলের চাইতে অনেক বেশী, তাই তা সহজে মিশবে না। এমনকি নাড়া না দিলেও মধু জলে মিশবে না।