মধ্যবিত্ত কাকে বলে তা নিয়ে নানা সংজ্ঞা ও মতবাদ থাকতেই পারে কিন্তু মোদ্দা কথায় মধ্যবিত্ত পরিবার বলতে যা বোঝায় তাতে এদের কাছে থাকে সীমিত সম্পত্তি, আপতকালীন সময়ের জন্য কিছু সঞ্চয় এবং একটি ২/৩ ঘরের নিজের কিংবা ভাড়াবাড়ি। চাকরি বা ব্যবসা এই পরিবারের মানুষদের প্রধান জীবিকা, কিন্তু অফুরন্ত টাকার উৎস এইসব পরিবারে থাকে না।  মাস গেলে মাইনে আর অতিরিক্ত সব খরচ সামলে বাকি কিছু থাকলে সেইটুকু পুঁজি সঞ্চয় এভাবেই দিন গুজরান করে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবার।  মাসের বিদ্যুৎ বিল, জলের খরচ, পেঁয়াজের দাম, জ্বালানির দাম এইসব রোজকার খরচ নিয়ে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মাথাব্যথা থাকে, তারা খরচ ও সঞ্চয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। ইএমআই মিটিয়ে, ছেলে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে মাসের খরচ সামলে নিজেদের স্টেটাস ও আরামের কথা ভাবে। কিছু স্বপ্ন  লালন করে মনের ভেতর আর স্বপ্ন ও সাধ্য মিলেও যায় মাঝে মধ্যে।  তো এ হেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির আরামের কথা ভেবেই গাড়িনির্মাণকারী সংস্থাগুলো তৈরি করেছে এখনকার মধ্যবিত্ত পরিবারের পছন্দসই গাড়ি। নতুন বছরে শখ পূরণ করে নিতেই পারেন আপনি। নিচে রইল কিছু গাড়ির নাম ও বৈশিষ্ট্য-

ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা মাথায় রেখে সবচেয়ে ভালো এন্ট্রি সেগমেন্ট গাড়িগুলোর নাম রইল নিচে- এই গাড়িগুলোর দাম ৪ লাখ টাকা থেকে ৫.৫ লাখ টাকার মধ্যে।

মারুতি এস প্রেসো- এই গাড়িতে যতখানি জায়গা রাখা হয়েছে তা দেখলে সত্যি অবাক হতে হয়। ১ লিটারের স্মার্ট ইঞ্জিন, সহজ ইংগ্রেস সঙ্গে ক্যালিব্রেটেড এএমটি এবং একই সঙ্গে উন্নত ম্যান্যুয়াল ট্রান্সমিশন আছে এই গাড়িতে।  টার্নিং রেডিয়াস কম থাকার জন্য এস প্রেসো এই বাজেট সেগমেন্ট গাড়ির তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয়।

হুন্ডাই সান্ট্রো এএমটি- সবথেকে ভালো ক্যালিব্রেটেড এএমটি সিস্টেম রয়েছে এই গাড়িতে। এই গাড়ির অন্দরসজ্জা, স্টাইলিং নিয়ে নতুন করে আর কিছুই বলার নেই।

মারুতি ওয়াগনার আর ১.২ ভিএক্সয়াই, জেডএক্সআই- এই জনপ্রিয় গাড়িটির আর ভার্সানটি এন্ট্রি সেগমেন্টের অন্তর্ভুক্ত, কেবিনে যথেষ্ট জায়গা, সহজ ইনগ্রেস ও ইগ্রেস রয়েছে পরিবারের বরিষ্ঠ সদস্যদের জন্য, শহরের রাস্তায় এই গাড়ি চালানোয় স্বস্তি আছে, ভিএক্স আই এবং জেডএক্সআই দুই মডেলেই পাওয়ার পারফরম্যান্স ফিচার আছে। এএমটি সিস্টেম যুক্ত হওয়ার পর ড্রাইভ করা অনেকখানি সহজ এখন, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য খুবই নির্ভরযোগ্য গাড়ি।

মারুতি সিলারিও সিএনজি- রানিং কস্ট বেশ কম এই গাড়ির। দুর্দান্ত ফিচার, মারুতি সুজুকি সিএনজির বিশ্বাসযোগ্যতা  এই গাড়িকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে।

ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সবচেয়ে ভালো হ্যাচব্যাক গাড়িগুলির নাম নীচে রইল- ৬ লাখ টাকা থেকে ৮ লাখ টাকা দামের মধ্যে এই গাড়িগুলো পাওয়া যাবে।

টাটা অল্ট্রোজ- আলট্রোজ এক্সই হল বেস মডেল যার মধ্যে অসাধারণ মানসম্মত নির্মাণ, ফিচার, সাসপেনসন, নিয়ন্ত্রণ সমস্ত কিছু যা বেশি দামি গাড়িগুলোতে থাকে তা এই মডেলটিতে আছে এবং মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের পছন্দের গাড়ি হয়ে উঠছে। এটি প্রিমিয়াম হাচব্যাক।

হুন্ডাই গ্র্যান্ড আই ১০ নিওস- উৎকৃষ্ট স্টাইলিং, সাস্পেন্সন, শহরের মধ্যে যাতায়াতে সাবলীলতা, দুর্দান্ত ফিচার এই গাড়িকে অনন্য করেছে। সঙ্গে আছে নান্দনিক অন্দরসজ্জা। পাওয়ার পিক আপ অতুলনীয় না হলেও শহরে চলাচলের নিরিখে খুব খারাপ নয়। এটি হল মিড হ্যাচ।

মারুতি ব্যালেনো ডেল্টা পেট্রল- অনেকখানি জায়গা আছে এই গাড়ির ভেতরে, মাইলেজ যথেষ্ট ভালো, তাই মধ্যবিত্তের কাছে এই গাড়ি অনেকখানি বিশ্বাসযোগ্য ও সাশ্রয়কারী। মারুতি ব্যালেনো হল প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক গাড়ি।

হুন্ডাই এলিট আই২০ পেট্রল (ম্যাগনা, স্পোর্টস)- এই গাড়ির অন্দরসজ্জা একেবারে প্রিমিয়াম, ফিচার, স্টাইলিং-এ সেরা এই গাড়ির বিল্ড ব্যালেনোর থেকেও ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই গাড়িটি প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক তালিকাভুক্ত।

ফোর্ড ফিগো টাইটেনিয়াম ডিজেল- এই মিড হ্যাচ ডিজেল গাড়িটিতে আছে রেসপনসিভ ডিজেল ইঞ্জিন, উৎকৃষ্ট ফিচার। রানিং খরচ কম কিন্তু সুরক্ষা ও হ্যান্ডলিং-এর ব্যাপারে এই ফোর্ড ফিগো টাইটেনিয়াম ডিজেল যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। পি আপ ক্ষমতা অসাধারণ।এই গাড়িটি মিড হ্যাচ ডিজেল পর্যায়ভুক্ত।