গরম কমার নাম নেই আর বৃষ্টিরও দেখা নেই। অতঃপর গলদর্ঘম হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া উপায় নেই। আবার গরম লাগছে বলেই লেজ গুটিয় তিব্বত চলে যাওয়ারও সুযোগ নেই। তাই গরম যেমন সহ্য় করতে হবে, তেমনই গরমের সঙ্গে আনুষঙ্গিক সমস্য়াগুলিও মেনে নিতে হবে। 

গরম মানেই ত্বকের হাজারো সমস্য়া। কখনও সানট্য়ান, কখনও ফুসকুড়ি, আরও কত কী! আর এর মধ্য়ে অন্য়তম হল ঘামাচি আর ত্বকের চুলকুনি। মূলত শরীরে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে ঘামাচি হয় ত্বকে। আর গরমে বাচ্চা থেকে বয়স্ক সকলেই এই ঘামাচির সমস্য়ায় ভোগেন। যথারীতি সারা গ্রীষ্ম ধরে এই ঘামাচির জ্বালায় ভুগতে হয়। তাই জেনে নিন ঘামাচি এড়াতে কী কী করবেন- 


১)একটা শুকনো কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ বেঁধে নিন। সেই কাপড় এবার ১০-১৫ মিনিট ধরে ঘামাচির উপর লাগান। বরফ ঘামাচি যেখানে হয়েছে সেখানে আর নতুন করে ঘাম বসতে দেবে না। দিনে ৩-৪ বার এই ভাবে করলে ভাল ফল পাবেন।

২) গরমে ত্বক ত্বৈলাক্ত হয়ে যায়। তাই ব্য়াকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত হয়। এক্ষেত্রে মুলতানি মাটির সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। উপকার পাবেন। ঘামাচির এলাকা  শুকনো থাকলেই ঘামাচি তাড়াতাড়ি সারবে। 

৩) চন্দন ত্বকের জন্য় খুবই উপকারী। চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। ত্বক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত থাকবে। এতে দ্রুত উপশম পাবেন।

৪) নিম পাতা অ্য়ান্টি সেপটিকের কাজ করে। নিম পাতার রসের সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। তাই নিমপাতা ঘামাচির উপশম হিসাবে খুবই উপকারী।

৫) এক কাপ ঠান্ডা জলে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। বেকিং সোডাও ঘামাচির জায়গায় ঘাম বসতে দেয় না। পরিষ্কার কাপড় বেকিং সোডা গোলা জলে ডুবিয়ে ঘামাচির উপর ১০ মিনিট পর্যন্ত আলতো হাতে মুছতে থাকুন।

৬) ওটমিল যেমন খেলে উপকার পাওয়া যায়, তেমনই ত্বকের পক্ষেও ভাল। ওটমিলের সঙ্গে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে তাড়াতাড়ি উপকার পাবেন। 

৭) অ্য়ালোভেরা ত্বকের জন্য় খুবই উপকারী। ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। ঘামাচির উপর শুধু অ্যালোভেরার রস লাগান। তাহলেই উপকার পাবেন। অথবা হলুদের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ অ্য়ান্টি সেপটিকের কাজ করে।