ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। একথা সকলেই জানে। তবে শুধু ক্য়ানসার বা ফুসফুসের ক্ষতি না, ধূমপান নষ্ট করে দিতে পারে চোখও। আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট অল অ্য়াবাউট ভিশনের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে এমনই। 

চোখের গুরুত্ব কতটা তা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। অন্ধত্ব চলে এলে সারা পৃথিবীই যেন অন্ধকার হয়ে পড়ে। নিজের প্রিয়তম মানুষদেরও দেখতে পাওয়া যায় না। এর এই অন্ধত্ব আসতে পারে অতিরিক্ত ধূমপান থেকেও। মার্কিন আই স্পেশালিস্ট অ্য়ামি রডরিগেস এমনই জানিয়েছেন। 

আই স্পেশালিস্ট বলছেন, ধূমপানের প্রভাব পড়ে চোখের রেটিনার উপরে। রেটিনার জন্য়ই আমরা আলো দেখতে পাই।  অনবরত ধূমপানে এই রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্রমশ অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান রক্তে বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল-এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রে‌টিনায় রক্ত সঞ্চালন হতে পারে না ঠিক মতো। অক্সিজেনের পরিমাণও কমতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে আসতে থাকে।একে বলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন। এই রোগকে পুরোপুরি সারানোও যায় না।

সিগারেটে বেশ কিছু নিউরোটক্সিক কেমিক্যাল থাকে। এই কেমিক্যাল কালার ভিশন খারাপ করে। ফলে লাল-সবুজ ও নীল-হলুদ এই রং-গুলি দেখার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে থাকে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি। এমনকী চোখে ছানির চেয়ে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।সঠিক সময়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠা সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বেশি দেরি হয়ে গেলে দৃষ্টি আর ফিরে পাওয়া যায়  না। 

অতিরিক্ত ধূমপানের জন্য় এছাড়াও যে সমস্য়াগুলি হয়ে থাকে সেগুলি কী কী দেখে নেওয়া যাক- 

১) চোখে ছানি পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। যাঁরা দিনে ১৫ বার ধূমপান করেন তাঁদের চোখে ছানি পড়ার সম্ভাবনা তিন গুণ বেড়ে যায়। 

২) ধূমপান না করলেও ড্রাই আইজ-এর সমস্য়া হতে পারে। কিন্তু যাঁরা ধূমপান করেন তাঁদের ড্রাই আইজ-এর সমস্য়া হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। 

৩) অতিরিক্ত ধূমপানে প্রেশার হাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশ অনেকটা বেড়ে যায়। 

৪) যারা ডায়াবেটিস-এর রোগী তাঁদের ধূমপান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। ধূমপানে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর ডায়াবেটিস শরীরের অন্য়ান্য় অঙ্গ প্রত্য়ঙ্গ খারাপ করে দিতে পারে। তাদের মধ্য়ে চোখ অন্য়তম।