সিলিয়াক ডিজিসকে বলা হয় গ্লুটেন এনটেরোপ্য়াথি। যা আটাজাতীয় খাবার থেকে হতে পারে। গম, বার্লি, রাই , যাদের মধ্য়ে গ্লুটামিনের একটা অংশ থাকে, তা ক্ষুদ্রান্তের হজম ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাতে করে ক্ষুদ্রান্তের মিউকাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফরে বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের দৈহিক  বৃদ্ধি ও ওজন কমে যায়। হিমোগ্লোবিন কমে গিয়ে অ্য়ানিমিয়া দেখা দেয়। সাধারণত ছোট বয়স থেকেই এই রোগ হয়। তবে বড় বয়সেও এই রোগ ধরা পড়তে পারে।

যে দেশে রুটি বা পাউরুটি খাওয়ার প্রচলন বেশি সেখানে এই রোগ বেশি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যখন পাউরুটি পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন সিলিয়াক রোগের রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠে। তার থেকেই বোঝা যায়, এই রোগের নেপথ্য়ে রয়েছে রুটি বা পাউরুটি। এই রোগে ছোট বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাচ্চারা যখন সাধারণ ভাতরুটি খেতে শুরু করে তখন তার কষ্ট শুরু হয়। বাচ্চার পেট ফুলে ওঠে, পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এই রোগে হিমোগ্লোবিনের অভাবে দেহের বাড়বৃদ্ধি ব্য়াহত হয়। বাচ্চা সবসময়ে ঘ্য়ানঘ্য়ান করতে থাকে। না-পড়াশোনা করতে পারে, না-খেলাধুলো করতে পারে। দুর্বলতা দেখা দেয়। স্প্লিন শুকিয়ে যায়।  ভিটামিন-ডি ও ক্য়ালশিয়াম শোষণ না-হওয়ার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়। হাড়ের জোর কমে যায়।গাঁটেগাঁটে ব্য়থা হয়। প্রোটিন হজম হয় না। খিঁচুনি হতে পারে। প্রোটিনের অভাবে পা ফুলতে পারে, পেটে জল জমতে পারে। লিভার বড়় হয়ে যেতে পারে, মুখে ঘা হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়ে বন্ধ্য়াত্ব আসতে পারে। ছোটবেলায় দেখা গেলেও অনেক সময়ে ষাট বছর বয়সে এই রোগ ধরা পড়ে। এই রোগ ত্বকেও প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগলে তা ক্য়ানসারের দিকে এগোতে পারে আর লিম্ফোমা রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে একথা মনে করার কোনও কারণ নেই যে, রুটি খেলেই এই রোগ হবে। যদি কাউর এই ধরনের কোনও উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করে তবেই বলতে পারবেন, আপনার এই রোগ হয়েছে কিনা। যদি এই রোগ হয় তাহলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা ও ডায়েট  ঠিক করে দেবেন  আপনার ডাক্তারই। তবে সেক্ষেত্রে সাধারণত গ্লুটেন-ফ্রি খাবার খেতে হবে আপনাকে।