কন্টেনমেন্ট এলাকা ছাড়া লকডাউন আনলক শুরু করেছে ভারত সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পার্লার ও সেলুন-সহ অনেক জিনিসের দোকান খুলছে ধীরে ধীরে। লকডাউনের কারণে অনেকের ত্বক এবং চুলের যত্ন নেওয়া বন্ধ হয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যখন বিউটি পার্লার এবং সেলুন খুলেছে তখন পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে সেখানে যাচ্ছেন। তবে এই সময়ে মনে রাখা উচিত, যে লকডাউনটি খোলার ফলে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি দূর হয়নি, বরং এটি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। তাই বিউটি পার্লার এবং সেলুনে যাওয়ার সময় এই বিষয়গুলির আপনার বিশেষ ভাবে মেনে চলা উচিত।

বিউটি পার্লারের দরজা,  বৈদ্যুতিক সুইচ, চেয়ার, সার্ভিস ট্রলি, ওয়াশব্যাসিন, পণ্য এবং সরঞ্জাম এবং কার্ড পেমেন্ট মেশিন যাকে জিপিআরএস পিওএস ও বলা হয় ইত্যাদি জিনিসগুলি এড়িয়ে চলুন টাচ করবেন না। আর পার্লারে গেলে এগুলি যদি আপনাকে ব্যবহার করতেই হয় তবে আপনার হাতের গ্লাভস অবশ্যই পড়তে হবে। যখন খুব প্রয়োজন হবে তখনই এগুলি স্পর্শ করুন। এগুলি ছাড়াও ডিসপোজেবল ওয়াইপ এবং টিস্যু পেপার সব সময় আপনার কাছে রাখুন।

সব সময় টিস্যু, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপস, অ্যালকোহল বেসড স্যানিটাইজার, টিএন৯ মাস্ক সব সময় আপনার সঙ্গে রাখুন। এগুলি ছাড়াও, আপনি পার্লারে যাওয়ার আগে নিজের তোয়ালেও আপনার সঙ্গে রাখুন। যাতে আপনাকে পার্লারের টাওয়াল ব্যবহার করতে না হয়। তবে মনে রাখবেন পার্লারে নিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রগুলি আবার সঠিক ভাবে স্যানিটাইজ করে তবেই ঘরে ঢোকাবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেই পার্লারে লোকের সংখ্যা কম বা ভিড় কম সেখানেই এই সময় যাওয়া উচিত।

এই সময় ছোট এবং ঘিঞ্জি ধরনের পার্লারে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। যেখানে গ্রাহকদের দরজা খুলতে হবে না এমন জায়গাতেই যান। যেখানে যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা বা থার্মাল স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা রয়েছে এমন পার্লার বা সেলুনেই যাওয়াই উচিত। জুতো কভারের জন্য উপযুক্ত ডিসপোজেবল কভার যেই পার্লারে দিচ্ছে সেখানেই যান। পার্লারের ভিতরে থাকা কর্মচারী ও গ্রাহকদের প্রত্যেকের মাক্স পরে থাকা উচিত। সেলুনে বা পার্লারে প্রবেশের সময় স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা থাকা উচিত। পেমেন্ট এর সময় নগদ বা কার্ড এর পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট করুন।

করোনার মত মারণ ভাইরাস খুব সহজেই বিউটি পার্লার বা সেলুন এর মত জনবহুল জায়াগায় থেকে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই এই সময় সুস্থ থাকতে বিউটি পার্লারের মত স্থানে না যাওয়াই উচিত।  আপনি বাড়িতে থেকেই নিজের যত্ন নিলে নিরাপদে থাকবেন। বাড়িতে থেকে নিজেই এই সময় নিজের যত্ন নিন। কারণ বাড়িতে থাকা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই করোনা ভাইরাস এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম উপায়।