Saraswati Puja: কেন এই দিনকে প্রেমের দিন বলা হয় জানেন? লুকানো রয়েছে একগুচ্ছ কারণ…..

সরস্বতী পুজোর কথা মাথায় এলেই আগে মনে ভাসে একটা বাসন্তী রঙের শাড়ি। ছেলেদের ক্ষেত্রে আলমারি থেকে সদ্য বের করা নতুন হলুদ পাঞ্জাবিটা। যদিও সময় বদলাতে বদলাতে এখন সরস্বতী পুজোর জন্য বাঁধা ধরে থাকা হলুদ রঙেও রং লেগেছে। সাজ বদলেছে রকমারীতে। এখন যেকোনও রং-ই ঠাঁই পায় সাজগোজে।

তাও আজও বাঙালিদের কাছে সরস্বতীপুজো মানে সকালবেলায় উঠে উপোশ করা পেটে চোখ বুজে বলা, " বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতী ভারতী দেবী নমোহস্তুতে।" ওই একদিন পড়াশুনোর ছুটি। সমস্ত বই ঠাঁই পেয়ে যায় মায়ের পায়ে।

এর পাশাপাশি এদিন প্রেমের দিন। সদ্য কৈশোর বেলার মন উড়ুউডু করার দিন। এটা তাদের দিন, যারা সবে ভাল লাগা কাকে বলে শিখেছে। এটা সেই ছেলেদের দিন যারা সবে জেনেছে প্রিয় বান্ধবীটিকে শাড়ি পরলেই সব থেকে বেশি ভাল লাগে। আসলে ভ্যালেন্টাইনস ডে ঠিক কী বোঝার আগেই এদিন বহু ছেলেমেয়েরা ভ্যালেন্টাইন ঠিক কাকে বলে সেটা বুঝে যায়।

ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে ঠিক কীভাবে প্রেম নিবেদন করতে হয় তা জানার আগেই সরস্বতী পুজোর দিন নিজের প্রিয় মানুষটাকে প্রেম নিবেদন করে ফেলে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই।

বসন্তের ঠান্ডা স্পর্শের মধ্যে মনেও যেন হিম খেলে যায় অনেকের। শাড়ির আঁচল আর পাঞ্জাবির আস্তিন চিনতে শুরু করে একে অপরকে। যখন দামি রেঁস্তোরায় বসে প্রেমিকাকে খাওয়ানোর ক্ষমতা থাকে না, তখন সরস্বতী পুজোই একমাত্র হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের প্রেম টিকিয়ে দেয় মাত্র ১০ টাকার ফুচকার হাত ধরে।

সদ্য কলেজবেলার প্রেম প্রথমবার হাত ধরে বেড়াতে যায় গঙ্গার ঘাটে অথবা সরবরের একটা কোণায়। পরে হাজার হাজার জায়গায় বেড়াতে গেলেও এরাই চিরকাল গেঁথে রয়ে যায় স্মৃতির অন্তরালে।

বিদ্যার দেবীর আরাধনা তো রয়েছেই, কিন্তু এইদিন এমন একটা দিন যেদিন পড়াশুনো, কোচিং ক্লাস, রাগি বাবার চোখ সব পালিয়ে এক মুঠো রোদ্দুর খুঁজে পায় মন। যে রোদ্দুরে ডানা মেলে উড়ে যায় ভাললাগার অনুভূতিগুলো। এদিন তাদেরও দিন যারা বয়ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ড শব্দগুলো বোঝার আগেই এমন একটা বন্ধু খুঁজে পায় যে মৃত্যুর শেষ ক্ষণটুকু পর্যন্ত পাশে থাকে।

তাই বাঙালিদের কাছে সরস্বতী পুজো কতটা ভ্যালেন্টাইনস ডে হতে পেরেছে জানি না তবে হাজার হাজার প্রেমিক-প্রেমিকার প্রথম প্রেমের অনুভূতির সাক্ষী হতে পেরেছে বটে...…