দেশব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থার মূল সিস্টেমে যে রূপান্তর ঘটে চলেছে, তা বোঝার জন্য বিদ্যাসারথির ‘ইন্ডিয়া লকডাউন লার্নিং’ প্রতিবেদনটি তৈরী করতে দেশের  ৪০০ টি শহর জুড়ে ১০,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থীর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কীভাবে শিক্ষার্থীরা ই-লার্নিং ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন এবং এই পরিবর্তনের ফলে তাঁরা যে সম্মুখিন হচ্ছেন তা জানতে এই  সমীক্ষাটি সেই বিষয়েই। 

বিদ্যাসারথির ‘ইন্ডিয়া লকডাউন লার্নিং’ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী  অনলাইনে পড়াশোনার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে কেবলমাত্র ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের অনলাইন ক্লাস করার জন্য ল্যাপটপ এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেন এবং ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ট্যাবলেটের  মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসে  উপস্থিত হন। অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে হোয়াটসঅ্যাপ এবং জুম কল এবং ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা তাঁদের  স্কুলের বা কলেজের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে।.   

যদিও অনলাইন ক্লাস হলো "নিউ নর্মাল" এরই অংশ, তবুও ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের চেয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ বেশি পছন্দ করেন। ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থীরা ই-লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগকে দায়ী করেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন অনলাইনে ফোকাস করা কঠিন এবং ১২ শতাংশ শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পড়াশোনার সময় জিজ্ঞাসার উত্তর স্পষ্টভাবে পেতে অসুবিধে হচ্ছে।

এর ভালো দিকটি হল, ৬০শতাংশ এরও বেশি শিক্ষার্থী ই-লার্নিংয়ের জন্য প্রায় ১-৪ ঘন্টা ব্যয় করে। ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যয় করেন  ৪-৮ ঘন্টা এবং ৮ শতাংশ  শিক্ষার্থী ৮-১২ঘন্টা অনলাইনে পড়াশোনার জন্য ব্যয় করে। অনলাইনে ক্লাস করছেন এমন মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬২শতাংশ, তাদের পাঠ্যক্রমের জন্য এবং ৩৮শতাংশ অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক ক্রিয়াকলাপের  জন্য অনলাইন ক্লাস ব্যবহার করছেন।  যাঁরা অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক ক্রিয়াকলাপের জন্য অনলাইন ক্লাস করছেন তাঁদের মধ্যে ৩৯শতাংশ শিক্ষার্থী  আর্ট এবং ক্রাফ্টের উপর অনলাইন কোর্স করছেন। 

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ১২ থেকে ২৮ বছর বয়সী এবং এদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ। উত্তরদাতারা আন্ডারগ্রাজুয়েট এবং স্নাতকোত্তর কোর্সে করছেন। তাঁরা মধ্যবিত্ত পরিবারের এবং এদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় ৭ লক্ষের কম। শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের সুবিধা সম্পর্কেও ভালভাবে অবগত। তাদের বেশিরভাগই উল্লেখ করেছেন যে ই-লার্নিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হল যে কোনও সময়েই কোর্সের পড়ার বিষয়বস্তুর উপলব্ধতা। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষার জন্য আগ্রহী হওয়ার পেছনে প্রেরণা হিসেবে এর ব্যবহারিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং সহজেই জিজ্ঞাসার উত্তর ব্যাখ্যা স্পষ্টভাবে পাওয়ার দিকটিও তুলে ধরেছেন ।

ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এই ই-লার্নিং সংস্কৃতিতে নতুন। এই মহামারীর সময়  অনলাইন ক্লাস শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । এই সমীক্ষাটি ভাল আইটি পরিকাঠামোর  প্রয়োজনীয়তা পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেছে,  যাতে করে ডিজিটাল পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাস পায়। বিদ্যাসারথী হল এনএসডিএল ই-গভর্নেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর তৈরী তিনটি এডুকেশন ফিনান্সিং পোর্টালের মধ্যে একটি যা  শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা সম্বন্ধিত আর্থিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে,  যেমন - বিদ্যাসারথি  (শিক্ষাবৃত্তি), বিদ্যালক্ষ্মী ( শিক্ষাঋণ ) এবং বিদ্যাকৌশল  (দক্ষতা উন্নয়ন ঋণ)।