নিজস্ব প্রতিনিধি: মশলাদার খাবার নিয়ে চারপাশে এখন নিষেধাজ্ঞার প্রাচীর। এ কথা ঠিকই যে, বেশি মশলাদার খাবার খাওয়া পেটের পক্ষে ভাল নয়। কিন্তু একই সঙ্গে এ-ও মনে রাখতে হবে, বাচ্চাশুদ্ধু বাথটবের পুরো নোংরা জলটাকেই যেন ফেলে না-দিই আমরা। কারণ ভারতীয় মশলা শুধু রান্নাকে স্বাদেই অতুলনীয় করে তোলে এমনটা নয়, সেইসঙ্গে এর গুণও কিছু কম নয়। এই ধরুন না গোলমরিচের কথা। এমনি এমনি কি কি এটি এত মহার্ঘ্য! এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা প্রদাহনাশক। রক্তে শর্করার মাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এই গোলমরিচ। শুধু তাই নয়, কোলেস্টরলকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এটি। এমনকি, ক্যানসারের সঙ্গে যুঝবার মতো উপাদানও রয়েছে ছোট্ট একটা গোলমরিচে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, আপনার মস্তিস্কেরও প্রভূত উন্নতি হতে পারে এর সৌজন্যে।

আবার ধরুন লবঙ্গের কথা। এরমধ্যে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেলস। অতএব বলাই বাহুল্য, শুধু মুখের স্বাদই নয়, সেইসঙ্গে শরীরের পক্ষেও ভীষণ উপকারী ছোট্ট একটা লবঙ্গ। এতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।  রয়েছে ইউজেনল ও ভিটামিন-সি। লবঙ্গতে থাকে এমন এক উপাদান, যা তিনধরনের ব্যকটেরিয়া মারতে পারে সহজেই। এছাড়া মাড়ি বা দাঁতের ব্যথায় এর জুড়ি মেলা ভার। এমনকি, আপনার লিভারকেও ভাল রাখে এই লবঙ্গ। রক্তে শর্করার পরিমাণকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে।

আর হলুদ? এর প্রদাহনাশক ভূমিকার কথা সর্বজনবিদিত। ধমনীর প্রদাহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে  হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে এটি। এছাড়াও মন মেজাজ ভাল রাখতেও এর জুড়ি নেই, কারণ মুড এনহান্সার হিসেবে এর যথেষ্ট খ্যাতি রযেছে। যে কোলেস্টেরল হার্টকে ভাল রাখে, সেই গুড কোলেস্টরলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে এই হলুদ। ত্বকের বড় বন্ধু এই হলুদ। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার সঙ্গে ব্রণর হাত থেকেও বাঁচায় হলুদ। সাধ করে কি আর ভারতীয় মশলার এমন জগৎজোড়া খ্যাতি!