রান্না একটি বড় শিল্প। কোনটার সঙ্গে কী মেশালে খাবারের স্বাদ ভালো হবে তা আন্দাজ করে রান্না করা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু এই ব্যস্ততার যুগে এত সময় কোথায়! তাই কোনও  রকমে পেট ভরার খাবার বানিয়ে ফেলাই ভরসা। আর তাড়াতাড়ি খাবার বানানোর অন্যতম উপায় হল প্রেশার কুকার। 

অফিসে পৌঁছতে পাছে দেরী হয়ে যায়! তাই একসঙ্গে চাল ডাল প্রেশার কুকারে চাপিয়ে দিলেই ১৫ মিনিটে রান্না শেষ। এরকমটা অনেকেই করে থাকেন। কিন্তু তা কতটা স্বাস্থ্যকর তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছেই। আবার অনেকে মনে করেন, প্রেশার কুকারে রান্না করলে, তার খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পান দুটি সহজ টোটকায়

রাডল্ফ ব্য়ালেনটাইনের লেখা বই 'ডায়েট অ্যান্ড নিউট্রিশন: আ হোলিস্টিক অ্যাপরোচে' এই বিষয়ে বিশদে আলোচনা করা হয়েছে। হিট ও স্টিমের মাধ্য়মেই প্রেশার কুকারে রান্না করা হয়। মূলত স্টিম ও প্রেশারেই রান্না হয় তাড়াতাড়ি। প্রেশার কুকারে এক ধরনের ভালভ থাকে যেগুলি ধোঁয়া আটকে রাখে। জল বা তরল পদার্থ ধোঁয়ায় পরিণত হতে থাকে ও তার প্রেশারে রান্না হতে থাকে। তবে প্রেশার কুকারে রান্নার সময়ে খাবারের সংস্পর্শে হাওয়া আসতে পারে না। ওপেন কুকিং-এ  বা হাঁড়ি-কড়াইতে রান্নার সময়ে হাওয়া খাবার রান্নাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। কিন্তু যেহেতু প্রেশার কুকারে হাওয়া সংস্পর্শে আসে না তাই কিছু খাবার ভিতর থেকে কাঁচা থেকে যেতে পারে, যা মোটেই হজমের জন্য ভালো নয়। সে দিক থেকে দেখতে গেলে হাঁড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে রান্না করা খাবার স্বাস্থ্যকর বেশি।  

আবার 'সায়েন্স অফ ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার' নামে এক মার্কিন পত্রিকায় বলা হচ্ছে, প্রেশার কুকারে রান্না করলে খাবারে ক্ষতিকারক রাসায়নিক লেকটিনের মাত্রা কমে যায়। এই রাসায়নিক খাবারের পুষ্টি নষ্ট করে দেয়। অতএব প্রেশার কুকারে রান্না হলে লেক্টিন নষ্ট হলে খাবারের পুষ্টি বরং বজায়ই থাকে। কিন্তু প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করলে আবার ভাতে জল জমে তা ভারী হয়ে যায়। এই ভাত নিয়মিত খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।  

কিন্তু স্লো কুকিং বা খোলা পাত্রে রান্নার স্থান এখনও কেড়ে নিতে পারেনি প্রেশার কুকার। কম সময়ে রান্না হলেও খাবারের গুণ এতেই বজায় থাকে বেশি ভালো। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা অ্যালুমুনিয়ামের প্রেশার কুকার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে অ্যালুমুনিয়াম খাবারের সঙ্গে মিশে ক্ষতি করতে পারে।