মানসিক অবসাদের শিকার কিংবা দুশ্চিন্তার কবলে পড়ে নাজেহাল জীবন, খানিকটা সময় রাখুন নিজের হাতে, মিলবে স্বস্তি। শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে কতই না মাথা ব্যথা, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যপারে কতটা চিন্তিত সকলে সে বিষয় প্রশ্ন থেকেই যায়। ক্রমাগত মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে ওঠার ফলে তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায় শরীরে ও মনে। আর এই সমস্যার মোকাবিলা করার উপায় একটাই, মেডিটেশন।

আজ বিশ্ব মেডিটেশন দিবস। সকল চিন্তা দূর করে কেবল মাত্র একটি বিষয়ের ওপর মনোসংযোগ করার ক্ষমতাই হল মেডিটেশন। ধ্যানও একাপ্রকার মেডিটেশন, সমাজের নানান সমস্যা যা সকলের মনে প্রভাব ফেলে, সেইসকল বিষয়বস্তু থেকে নিজেকে মানসিকভাবে কিছু সময়ের জন্য দূরে সরিয়ে রাখা।

মেডিটেশন করার উপকারিতাঃ

  • মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে মেডিটেশন। কোনও বিষয় মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মেডিটেশন।
  • মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। সারাদিনে হাজারো চিন্তা, কাজের চাপ ও শারীরিক ক্লান্তিকে অনেকাংশে কাটিয়ে তোলে মেডিটেশন।
  • মানসিক অবসাদের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
  • একাকিত্ম, দুশ্চিন্তা, প্রভৃতি সমস্যার সমাধান অনায়াসে মিলবে এই একটি সু-অভ্যাস গড়ে তোলায়।
  • আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে এই অভ্যাস।
  • ধৈর্য্য বৃদ্ধি পাবে, কথায় কথায় উত্তেজিত হয়ে পড়ার সমস্যা থেকে মিলবে মুক্তি।

মেডিটেশন করার পদ্ধতিঃ

  • মেডিটেশন করার জন্য একটি ফাঁকা জায়গা বেঁছে নিন।
  • ভোর বেলা মেডিটেশন করলে প্রকৃতির সতেজতাও স্পর্শ করে মনেকে।
  • হালকা জামা-কাপড় পরে মনটাকে শান্ত করে বসুন, হাতে ২০ মিনিট সময় রাখুন।
  • পরিবেশটা যেন মনোরম ও পরিচ্ছন্ন হয়।
  • এবার আসনের ওপর সোজা হয়ে বসে চোখ বন্ধ করতে হবে।
  • কোনও মেডিটেশন মিউজিক চালিয়ে রাখতে পারেন। কারণ প্রথম দিন থেকেই সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্তে মনকে নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। অভ্যাসের মাধ্যমে তা বাড়িয়ে তুলতে হয়।
  • এরপর এক মনে কোনও একটি কেন্দ্রবিন্দুতে স্মরণ করে মনোসংযোগ করার চেষ্টা করুন। মিউজিকের সাহায্য না নিলে ওম উচ্চারণ করেও মেডিটেশন করা যায়।
  • পারিপার্শ্বিক সকল চিন্তাকে ভুলে মস্তিষ্কে খানিক সময়ের জন্য স্বস্তি দিন।
  • স্থির হয়ে এভাবেই বসে থাকুন, অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থনা করেও মেডিটেশন শুরু করা যায়।