লাইফস্টাইল ডিজিস কথাটা এখন খুব শোনা যায়। আমাদের  পাল্টে যাওয়া জীবনযাত্রাই যে কারণ, তা বলাই বাহুল্য়। বেশি রাত করে খাওয়া, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ফাস্টফুডের দাপট, কম্পিউটারে সামনে বসে একটানা দীর্ঘক্ষণ কাজ, ঘরেবাইরে বাতানুকূল জীবনযাপন, সবই যেন ক্রমশ শেষের সেদিনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। ক্রমশ ঘরকুনো হয়ে যাচ্ছে ছোটরাও। মাঠে গিয়ে বা রাস্তায় নেমে খেলধুলোর দিন অতীত হয়েছে এখন। বাড়ি বসে পাবজির মতো ভার্চুয়াল গেমসেই এখন মুগ্ধ তারা।

এসব কিছুর ফল হিসেবে ছোটদের মধ্য়ে দেখা দিচ্ছে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস। বড়দের দেখা  দিচ্ছে সেরিব্রোভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস মেলিটাস, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিস, ব্রঙ্কিয়াল অ্য়াজমা, পেপটিক আলসার ও গ্যাসট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, নিউরোসাইকিয়াট্রিক অসুখবিসুখ। মোটা হওয়ার বা স্থূলতার রোগ যত বাড়ছে তত দেখা দিচ্ছে সমস্য়া। তত বাড়ছে ডায়াবেটিস মেলিটাস। তবে এর জন্য় দায়ী শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও। আমাদের সেডেন্টারি লাইফস্টাইল এইধরনের রোগগুলোকে বলতে গেলে ডেকে আনছে। আবার ধরুন পেপটিক আলসার আর গ্যাসট্রো ইসোফেগাস রিফ্লাক্স ডিজিস। এই দুটি রোগ হয় পুরোপুরি পাল্টে যাওয়া লাইফস্টাইলের কারণে। মজা করে বলা হয়, হারি বা তাড়াহুড়ো, অর্থাৎ সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠে নাকেমুখে গুঁজে অফিসে দৌড়নো এর অন্য়তম কারণ। ওরি বা দুশ্চিন্তা এর আরেকটি কারণ। আর কারি  বা ঝালমশলাযুক্ত খাবারদাবার এর আরও একটি কারণ।

আজকের দিনে যে নিউরোসায়কিয়াট্রিক রোগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে, ডিপ্রেশন, অ্য়াংজাইটি, এগুলোও অনেকটা পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে বলে মনে করা হয়। ভরসা করার মতো মানুষ কমছে। নির্ভর করার মতো মানুষ কমছে। পাশে থাকার মতো মানুষ কমছে। তাই আমরা ভিড়ের মধ্য়ে থেকেও ক্রমশ একা হয়ে পড়ছি। সেইসঙ্গে রয়েছে সোশাল মিডিয়ায় পিয়ার গ্রুপের চাপ। পরিচিতরা ছুটিতে বিদেশে বেড়াতে যাচ্ছে, আর আমি কিনা শিমলা-কুলুমানালিও যেতে পারছি না। মনের ওপর চাপ পড়ছে। নতুন প্রজন্মের ফ্রাসট্রেশন টলারেন্স কমছে। তাই অল্পকিছুতেই তারা ভেঙে পড়ছে।

এমনকি ক্য়ানসারকেও এখন লাইফস্টাইল ডিজিস বলা হয়। রেস্তোরাঁর ঝুলন্ত ঝলসানো মাংস, ফাস্টফুডের আজিনামোটো থেকে শুরু করে সেডেন্টারি লাইফস্টাইল, সবকিছুই ডেকে আনছে ক্য়ানসারের বিপদ। তাই সামগ্রিকভাবে জীবনযাপনকে পাল্টাতে না-পারলে, জীবনযাত্রার রোগ ক্রমশ গ্রাস করবে। সেই কারণে দরকার, যতটা সম্ভব রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়া।  দরকার বাইরের খাবার, ফাস্টফুড বন্ধ করে বাড়ির  তৈরি খাবার খাওয়া। নিয়ম করে একটু হেঁটে আসা। বাচ্চাদের একটু খেলতে পাঠানো। আর ফেসবুকের ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে বুঁদ হয়ে না-থেকে বিপদে পাশা দাঁড়ানোর মতো বন্ধু তৈরি করা।