ই-কমার্স চলে আসার পর এখন এক ক্লিকে প্রচুর জিনিসের পসরা চোখের সামনে। এত এত ব্র্যান্ড, এত ধরণের জিনিসের মধ্যে মনের মতো জিনিস পকেটের রেস্ত বুঝে কিনতে পারার কৌশল সবার আয়ত্তে থাকে না। সঠিক রিভিউ ও গাইডলাইন পড়ে এ কৌশল জেনে নিতে হয়। আজ থাকল এমন একটি জিনিস কিনতে পারার গাইডলাইন যে জিনিসটি এখন আর বিলাসিতা নয়, অপরিহার্য বস্তুর তালিকার মধ্যেই পড়ে।
টিভি দেখার ট্রেন্ড যেমন বদলেছে তেমন টেলিভিশন সেট ও বাকি প্রযুক্তিবিষয়ক ধারণারও আমূল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নতুন ব্র্যান্ড, নতুন অফার, স্মার্ট টিভি, ৪কে টিভি এসব আসার পর বিপ্লব এসে গেছে টিভির দুনিয়ায়। প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে সনাতনী ব্র্যান্ডগুলো, যেমন স্যামসাং, সোনি, এলজি, প্যানাসোনিক প্রভৃতি ব্যান্ড বদল আনছে দামে, প্রযুক্তিতে এবং চেহারায়। কম দাম, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে শাওমি, ভিউ, ব্লপাঙ্কট ব্র্যান্ড এসে গেছে বাজারে।

ব্লপাঙ্কট ব্র্যান্ড, ২০,০০০ হাজারের নীচে ৪কে এইচডি আর টিভি এনেছে। তার ওপর আছে প্রজাতন্ত্র দিবসের ছাড়। তাই সাধ ও সাধ্য মিলে যেতেই পারে এবারে। যদি ক্রেতাদের ব্লপাঙ্কট -এর ৪৩ইঞ্চির ৪কে এইহডিটিভি-এর পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো। এটি সুলভ দামে ভালো টিভি। যদি এইচডি চ্যানেল দেখার বাসনা থাকে এবং বাজেটও ধরাবাঁধা তাহলে এই বাজেট টিভি আপনার জন্যই। তবে এই টিভিগুলোয় এসডি চ্যানেলের পারফরম্যান্স মোটেও ভালো নয়, তাই কী দেখবেন তা স্থির করে নিয়ে টিভি বাছুন।  অ্যাামাজন, নেটফ্লিক্স এ যে ধরণের ছবি, কন্টেন্ট থাকে তা যদি দেখতে চান তবেই এই ধরণের টিভির কথা ভাবুন। না হলে হতাশ হতে হবে। সেট টপ বক্স এর মাধ্যমে এস ডি চ্যানেল দেখার জন্য কিন্তু এই ধরণের টিভি নয়। 

এবার আসা যাক টিভি সেট যেগুলো ৩৫,০০০-এর মধ্যে।  নাম দেওয়া হয়েছে নিউ সিনেমা রেঞ্জ।  এই দামের রেঞ্জে এই ধরণের প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ টিভি দু বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল।  ভিউ সিনেমা টিভি রেঞ্জ লঞ্চ হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। ডলবি ভিশন টিভি আগেই লঞ্চ করেছিল ওয়ান প্লাস। নতুন প্রজন্মের কথা মাথা রেখেই এই ধরণের প্রযুক্তি নিয়ে আসছে ব্র্যান্ডগুলো। যারা নেটফ্লক্স ও অ্যামাজন পয়সা খরচ করে দেখেন কিংবা ভবিষ্যতে দেখার ইচ্ছে আছে তাদের জন্য ডলবি ভিশন সঠিক নির্বাচন। ডলবি ভিশন, এইচডিআর এর মধ্যে কি কি পার্থক্য আছে তা জেনে নিতে হবে বিনিয়োগ করার আগে। এইচডিআর -এর থেকে ডলবি ভিশনের ছবির মান অবশ্যই ভালো আর ডলবি ভিশন হল ভবিষ্যৎ। এইচডিআর টিভিতে থাকে ১০ বিট হাই ডাইনামিক রেঞ্জ কিন্তু ডলবি ভিশনে থাকে ১২ বিট হাই ডায়নামিক রেঞ্জ। এছাড়াও ডলবি ভিশনে থাকে ডায়নামিক মেটা ডেটা। তার ফলে ছবির রঙ ও উজ্জ্বলতা অনেক বেশি হয়। শার্পনেস (স্পষ্টতা), কালার অ্যাকিউরেসি (নিখুঁত রঙ), ব্রাইটনেস (উজ্জ্বলতা) সব বেশি থাকে।  সঙ্গে দেখে নিতে হবে ডিসপ্লে প্যানেল কোয়ালিটি। নাহলে যে ধরণের টিভিই হোক না কেন ছবির গুণগত মান ঠিক থাকবে না। প্যানেলের পারফরম্যান্সের কথা রিভিউ পড়েই জেনে নিতে হবে নাহলে ঠকে যেতে পারেন ক্রেতা।
শাওমি-এর মিটিভি  ৪ক্স ৫৫ ইঞ্চি এসেছে। ৪এক্স ৫০ ইঞ্চি মডেলটির সঙ্গে মানের কোনও তফাৎ নেই, খালি স্ক্রিন বা পর্দার আয়তনে পার্থক্য আছে। একই দাম এবং বৈশিষ্ট্য ও পারফরম্যান্সও এক। ঘরের আয়তন অনুযায়ী যদি ৫ ইঞ্চি বেশি আয়তন চান তাহলে ভাবতে পারেন ৫৫ ইঞ্চির কথা। প্যানেল ভাল কিন্তু ব্লপাঙ্কট, ওয়ান প্লাসের মতো ভালো নয়। তবে দাম কম মিটিভির। যে বিষয়গুলি ৪কে কন্টেন্ট নেই তার জন্য এ টিভিও উপযোগী নয়।  বলে রাখা প্রয়োজন এই টিভিতে সুইচ অফ মোড নেই। প্রসেসর খুব শক্তিশালী নয়।  

এই বাজেট টিভিগুলির টিভির সাউন্ড কোয়ালিটি অনেকটাই উন্নত হয়েছে, টিউনিং ভালো হচ্ছে। ডলবি অ্যাাট্মস সাউন্ড এসেছে। পিকচার কোয়ালিটির মতো সাউন্ড কোয়ালিটির দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। এখন আর আগের মতো বাইরের থেকে আলাদা অডিও সেট আপ করতে হবে না। ছবির গুণগত মান যেমন ভালো হচ্ছে বাজেট টিভিতেও তেমন, আশা করা হচ্ছে যে যে টিভিগুলো ৩৫, ০০০ এর নীচে তাদের সাউন্ড আগামী দিনে আরো ভালো হবে । 

কিউলেড টিভি, ৪কে-টিভির মতোই ভবিষ্যতে ওলেড টিভি চলে আসবে কম দামে, বাজেটের মধ্যে। ওয়ান প্লাস আশা করা যায়  মিড-প্রিমিয়াম টিভির মতো বাজেট টিভিও আনার কথা ভাববে খুব শীঘ্রই। প্রতিযোগিতার বাজারে ৩০ হাজারের মধ্যে ভালো ব্র্যান্ডের ভালো টিভি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে এই বছরে।