ক্যানসার একটি মারণরোগ হলেও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক ভ্যাকসিনের সাহায্যে এই রোগকে সহজেই দূরে রাখা যায়।

শরীরে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং তা অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়াই হল ক্যানসার। তবে রোজকার জীবনযাত্রায় আমরা যদি ছোটখাটো কিছু বদল আনি, তাহলে এই মারণরোগকে অনায়াসেই দূরে রাখা যায়।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় যে ৬টি সহজ অভ্যাস

শরীরে কিছু কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যায় এবং অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তাকেই আমরা ক্যানসার বলি। তবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে এমন ৬টি অভ্যাস সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

শরীরের ওজন সবসময় সঠিক রাখা উচিত। অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলুন। কারণ, অতিরিক্ত ওজনের ফলে শরীরে ইনসুলিন ও ইস্ট্রোজেনের মাত্রায় বদল আসে। এর ফলে ক্যানসার কোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মানসিক চাপ কমান

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখাটা ভীষণ জরুরি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং যোগব্যায়াম করুন।

ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন

কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দারুণ কাজ করে। যেমন, সার্ভিকাল ক্যানসার (cervical cancer) রুখতে এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন এবং লিভার ক্যানসার (liver cancer) ঠেকাতে হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B) ভ্যাকসিন নিতে পারেন।

রোজ ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম

প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের অভাব বা ইনসোমনিয়া ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঘুমের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই ঘুম ঠিকঠাক না হলে ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়ে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

রোজকার ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি, ডাল এবং ফ্যাট-ফ্রি প্রোটিন রাখুন। প্রসেসড ফুড, রেড মিট (red meat) এবং অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খেলে ওজনও ঠিক থাকে, আর অন্যান্য রোগও ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না।

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা ব্যায়াম (যেমন জোরে হাঁটা বা সাইকেল চালানো) অথবা ৭৫ মিনিট ভারী ওয়ার্কআউট করা উচিত। এর ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমে।