স্কুলের ব্যাগে বই-খাতার সাথে জল, টিফিন, স্যানিটাইজার সহ আরও ৩টি জরুরি জিনিস রাখা মাস্ট। জানুন কেন এই ৬টি জিনিস ছাড়া ব্যাগ অসম্পূর্ণ।
স্কুল খুলতেই মায়েদের সকাল শুরু হয় যুদ্ধ দিয়ে। ঘুম থেকে তোলা, টিফিন বানানো, ইউনিফর্ম পরানো। এই সবের মাঝে ব্যাগ গোছানোটা তাড়াহুড়োতেই হয়।
কিন্তু একটু সচেতন হলেই অনেক বিপদ এড়ানো যায়। বই-খাতা ছাড়াও ব্যাগে আরও কিছু জিনিস থাকা দরকার, যা আপনার সন্তানকে সারাদিন সুরক্ষিত ও ফ্রেশ রাখবে।
ব্যাগে মাস্ট থাকতেই হবে এই ৬টি জিনিস:
১. জলের বোতল: গরমে ডিহাইড্রেশন খুব কমন। খেলার মাঠ বা ক্লাসের পর বাচ্চারা খুব তেষ্টা পায়। স্কুলের জল সবসময় বিশুদ্ধ নাও হতে পারে। তাই বাড়ি থেকে ফিল্টার করা জল ভরা বোতল দিন। স্টিল বা কপারের বোতল সবচেয়ে ভালো।
২. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিস্যু: টিফিন খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে আসার পর হাত পরিষ্কার করা মাস্ট। ছোট ৫০ml এর একটা স্যানিটাইজার আর ১ প্যাকেট টিস্যু ব্যাগের সাইড পকেটে রেখে দিন। করোনার পর এটা অভ্যাস করানো খুব জরুরি।
৩. এক্সট্রা মাস্ক ও রুমাল: ধুলো, বৃষ্টি বা কোনো বন্ধুর ঠান্ডা লাগলে কাজে দেবে। একটা এক্সট্রা সার্জিক্যাল মাস্ক আর পরিষ্কার রুমাল ব্যাগে রাখুন। ঘাম মোছা থেকে শুরু করে সব কাজে লাগবে।
৪. ছোট ফার্স্ট এইড কিট: ব্যান্ড-এইড, তুলো আর একটা ছোট অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম। খেলতে গিয়ে হাত-পা কেটে গেলে স্কুলের নার্স আসা পর্যন্ত এটা খুব কাজে দেয়। সাথে ২টো প্যারাসিটামলও রাখতে পারেন, তবে টিচারকে জানিয়ে রাখবেন।
৫. আইডি কার্ড ও ইমার্জেন্সি কন্ট্যাক্ট: ব্যাগের ভেতরের পকেটে বাচ্চার নাম, ক্লাস, আপনার ফোন নম্বর আর বাড়ির ঠিকানা লেখা একটা ছোট কাগজ রেখে দিন। কোনো কারণে বাচ্চা হারিয়ে গেলে বা অসুস্থ হলে স্কুল খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারবে।
৬. এক্সট্রা খাবার বা ড্রাই ফ্রুটস: টিফিনের পরেও অনেক বাচ্চার খিদে পায়। ৪-৫টা কিসমিস, ২টো বিস্কুট বা একটা ছোট ফল কেটে দিন। এনার্জি লেভেল ঠিক থাকবে এবং বাইরের চিপস-চকলেট খাওয়ার প্রবণতা কমবে।
এই ২টো ভুল একদম করবেন না:
ওজন বেশি করে দেওয়া: সব বই একসাথে দেবেন না। রুটিন দেখে শুধু সেই দিনের বই দিন। বেশি ওজনের ব্যাগে বাচ্চাদের মেরুদণ্ডের সমস্যা হয়।
দামি জিনিস দেওয়া: ট্যাব, দামি ঘড়ি বা বেশি টাকা ব্যাগে দেবেন না। হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। প্রয়োজনীয় টাকাই শুধু দিন।
একটা গোছানো ব্যাগ মানে আপনার সন্তানের অর্ধেক টেনশন কমে যাওয়া। পরের বার ব্যাগ গোছানোর সময় এই ৬টি পয়েন্ট মিলিয়ে নিন।
