ভরা পেটে ঢেঁকুর, পেট ফাঁপা, বুক জ্বালা – গ্যাস-অম্বল নিত্যসঙ্গী? অ্যান্টাসিড খেয়ে ক্লান্ত? সমাধান আছে আপনার রান্নাঘরেই। রোজকার চা বানোর সময় মিশিয়ে দিন মাত্র ১ চামচ জোয়ান দানা। এই ছোট দানাই গ্যাস কাটাবে, হজম শক্তি বাড়াবে, বুক জ্বালা কমাবে। কীভাবে বানাবেন, কখন খাবেন – রইল ডাক্তারি টিপস সহ। 

লাঞ্চের পর পেটটা ফুলে ঢোল। বেল্ট লুজ করতে হচ্ছে। একটু হাঁটলেই বুক জ্বালা। পরিচিত লাগছে? গ্যাস-অম্বল এখন ঘরে ঘরে। ভাজাভুজি, মশলা, অনিয়ম – সব মিলিয়ে পেটের হজম শক্তি গেছে লাটে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ওষুধের দোকানে ছুটবেন না। আগে রান্নাঘরের দিকে তাকান। ওখানেই পড়ে আছে গ্যাসের যম – জোয়ান। বাংলায় যাকে আমরা "যমানি" বা "আজোয়ান" বলি। দেখতে সরষের মতো ছোট দানা, কিন্তু গুণে ডাক্তার।

জোয়ান কেন গ্যাস-অম্বল কমায়?

জোয়ানের মধ্যে আছে "থাইমল" নামের একটা অয়েল। এই থাইমল পেটের পেশিকে রিল্যাক্স করে। গ্যাস আটকে গেলে পেট ফোলে, ব্যথা হয়। থাইমল সেই পেশিকে নরম করে গ্যাস বের করে দেয়। সাথে হজমের এনজাইম বাড়ায়। ফলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয়, অম্বল তৈরি হওয়ার চান্স কমে যায়। আয়ুর্বেদে হাজার বছর ধরে জোয়ান পেটের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

১ চামচ জোয়ান দিয়ে গ্যাস-কাটা চা – রেসিপি:

উপকরণ:

জল ১ কাপ, চা পাতা ১/২ চা চামচ, জোয়ান ১ চা চামচ, আদা কুচি ১/২ চা চামচ, স্বাদমতো গুড় বা মধু। চিনি দেবেন না। চিনি গ্যাস বাড়ায়।

বানোর নিয়ম:

১. কড়াইতে জল ফোটান। জল ফুটলে জোয়ান আর আদা কুচি দিয়ে দিন।

২. গ্যাস সিম করে ২ মিনিট ফোটান। জোয়ানের গন্ধ আর তেল জলে মিশে যাবে।

৩. এবার চা পাতা দিন। আরও ১ মিনিট ফুটিয়ে গ্যাস বন্ধ করুন।

৪. ছেঁকে নিয়ে গুড় বা মধু মিশিয়ে গরম গরম খান।

কখন খাবেন বেস্ট রেজাল্টের জন্য?

১. ভরা পেটে: লাঞ্চ বা ডিনারের ২০ মিনিট পর ১ কাপ খান। খাবার হজম হবে, গ্যাস হবে না।

২. গ্যাস হলেই: পেট ফাঁপা, ঢেঁকুর উঠছে মনে হলেই চুমুক দিন। ১০ মিনিটের মধ্যে আরাম পাবেন।

৩. সকালে খালি পেটে: যাদের ক্রনিক গ্যাস, তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হালকা গরম জোয়ান চা খান। পেট পরিষ্কার হবে।

জোয়ান চায়ের ৩টি বাড়তি উপকার

১. অ্যাসিডিটি কমায়: জোয়ান পাকস্থলীর অ্যাসিড নিউট্রাল করে। বুক জ্বালা কমে যায়।

২. অ্যাপেটাইট বাড়ায়: বাচ্চা বা বয়স্করা খেতে চায় না? খাবার আগে জোয়ান চা দিলে ক্ষিদে বাড়বে।

৩. সর্দি-কাশিতেও কাজ: জোয়ান গরম। তাই সর্দি লাগলে এই চা খেলে নাক খুলবে, কফ পাতলা হবে।

৪টি সতর্কতা – এটা মাথায় রাখুন

১. দিনে ২ কাপের বেশি নয়: জোয়ান গরম। বেশি খেলে শরীরে হিট হবে, গা জ্বালা করতে পারে।

২. প্রেগন্যান্সিতে না: গর্ভবতীরা জোয়ান চা খাবেন না। গর্ভে এফেক্ট করতে পারে।

৩. চিনি বাদ: চিনি দিলে জোয়ানের উপকার নষ্ট হবে। বদলে গুড় বা মধু দিন।

৪. ওষুধের সাথে গ্যাপ: আপনি যদি BP বা থাইরয়েডের ওষুধ খান, জোয়ান চা খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ওষুধ খান।

অম্বল কমানোর আরও ২টি দানা

জোয়ান না থাকলে হাতের কাছে যা আছে তাই দিন:

১. মৌরি দানা: ১ চামচ মৌরি থেঁতো করে চায়ে দিন। মৌরি কুলিং দেয়, অম্বল কমায়। স্বাদও ভালো।

২. মেথি দানা: ১/২ চামচ মেথি রাতে জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই জল চায়ে মিশিয়ে খান। মেথি অ্যাসিড শুষে নেয়।

শেষ কথা

গ্যাস-অম্বল মানেই অ্যান্টাসিড নয়। রান্নাঘরের জোয়ান দানাই যথেষ্ট। রোজ চায়ে ১ চামচ মিশিয়ে নিন। পেট হালকা থাকবে, মনও ফুরফুরে থাকবে।

মনে রাখবেন, চা খাওয়ার সাথে শুয়ে পড়বেন না। ১৫ মিনিট হাঁটুন। গ্যাস তৈরি হওয়ার আগেই কেটে যাবে।