লাস্টিং--এর বাজিতে আতর জিতবে। আতর অয়েল বেসড আর অ্যালকোহল ফ্রি। তাই স্কিনে ধীরে মেশে আর গরমেও ৬-১০ঘণ্টা আরামসে থাকে। কাপড়ে লাগলে ২ দিন অব্দি গন্ধ পাবে। পারফিউম EDT গরমে ১-২ ঘণ্টা, EDP ৩-৪ ঘণ্টা টেনেটুনে। কারণ অ্যালকোহল তাড়াতাড়ি উড়ে যায়। তবে পারফিউমের ‘থ্রো’ বেশি, মানে দূর থেকে গন্ধ আসে।
ঘামে ভিজে পারফিউম উবে যাচ্ছে? ২ ঘণ্টা পর নিজের গায়ের গন্ধ নিজেই টের পাচ্ছেন? গরমে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার লড়াইয়ে আতর আর পারফিউমের মধ্যে কে জিতবে, কোনটা মাখলে 8 ঘণ্টা পরেও গন্ধ থাকবে, আর কোনটা শুধু নামেই চলবে পুরো ব্যাপারটা সায়েন্স এর মাধ্যমে জানুন।

৪০ ডিগ্রি গরম, বাইরে বেরোলেই ঘেমে নেয়ে একসা। ডিও মাখো বা পারফিউম, ২ ঘণ্টায় গন্ধ ভ্যানিশ। তারপর নিজের গায়ের গন্ধ নিজেই টের পাও। এই গরমে সারাদিন ফ্রেশ থাকতে আতর না পারফিউম, কোনটা বেস্ট? অ্যালকোহল স্কিন পুড়িয়ে দেবে নাকি অয়েল বেসড আতর ঠান্ডা রাখবে?
• কেন আতর গরমেও হারে না:
পারফিউমের বেস হল অ্যালকোহল। অ্যালকোহলের কাজ হল টপ নোটগুলোকে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া। ৪০ ডিগ্রি গরমে এই অ্যালকোহল আরও ফাস্ট উড়ে যায়। সাথে তোমার দামি পারফিউমের 60% স্মেলও হাওয়া। তার উপর অ্যালকোহল স্কিন শুকিয়ে দেয়। বডি তখন টেম্পারেচার ব্যালান্স করতে আরও ঘামায়। ঘাম আর পারফিউম মিশে টক গন্ধ বেরোয়।
আতরের বেস চন্দন তেল বা অন্য ন্যাচারাল অয়েল। অয়েলের বয়েলিং পয়েন্ট বেশি, তাই উবে যায় না। স্কিনের তাপে আতর ধীরে ধীরে গলে আর তোমার বডি কেমিস্ট্রির সাথে মিশে যায়। এই কারণে আতর ঘামের সাথে ‘ফাইট’ করে না। বরং ঘামের হিটে বেস নোটগুলো আরও খুলে যায় আর ইউনিক একটা স্মেল তৈরি হয়। এই প্রসেসটাকে বলে ‘ড্রাই ডাউন’। আতরের ড্রাই ডাউন 6-8 ঘণ্টা ধরে চলে। তাই সকালে মাখলে বিকাল অব্দি টের পাবে। জামার কলারে লাগলে পরদিনও হালকা গন্ধ থাকবে।
• পারফিউম কখন ফেল? EDP, EDT, Parfum-এর লাস্টিং টাইম:
পারফিউম মানেই যে 30 মিনিটে শেষ তা না। কনসেনট্রেশন ম্যাটার করে। EDT বা Eau de Toilette-এ ফ্রেগরেন্স অয়েল থাকে মাত্র 5-15%। বাকিটা অ্যালকোহল আর জল। গরমে এটা ১-২ ঘণ্টার বেশি টেকে না। EDP বা Eau de Parfum-এ অয়েল ১৫-২০%। এটা ৩-৪ ঘণ্টা টানতে পারে যদি ঘাম কম হয়। Parfum বা Extrait-এ ২০-৪০% অয়েল থাকে। এটা গরমেও ৫-৬ ঘণ্টা দিতে পারে, কিন্তু দাম অনেক বেশি আর গরমে ভারী লাগে।
সমস্যা হল, যত বেশি অয়েল, তত কম প্রোজেকশন। আবার যত বেশি অ্যালকোহল, তত বেশি প্রোজেকশন কিন্তু তত কম লাস্টিং। তাই গরমে পারফিউম ইউজ করলে 3 ঘণ্টা পর টাচআপ দেওয়া মাস্ট। নইলে ইনভেস্টমেন্ট জলে।
* গরমে লাস্টিং চ্যাম্পিয়ন আতর,কোনটা কিনবে, কোনটা না:
লাস্টিং চাইলে শুধু আতর বললেই হবে না। ফ্লেভারও ম্যাটার করে। চন্দন, খস, ভেটিভার, মিট্টি এই আতরগুলোর বেস খুব স্ট্রং। এগুলো ৮-১০ ঘণ্টা ইজিলি থাকে। বিশেষ করে চন্দন আর মিট্টি আতর গরমে স্কিন ঠান্ডা রাখে, তাই ঘাম কম হয় আর গন্ধও লম্বা সময় থাকে। গোলাপ, জুঁই, ল্যাভেন্ডার ৬-৭ ঘণ্টা থাকে। এগুলো হালকা, ফ্রেশ।
কিন্তু উদ, অ্যাম্বার, কস্তুরি, মশক আতর গরমে এড়িয়ে চলো। এগুলো হেভি আর হট নেচারের। লাস্টিং ১০ ঘণ্টা হলেও মাথা ধরে যাবে। আর অবশ্যই ১০০% পিওর আতর নেবে। কন্নৌজের চন্দন বেসড আতর বেস্ট। ৩মিলি ৩০০ টাকার নিচে হলে ডাউট করো। সিনথেটিক আতর ১ ঘণ্টায় ভ্যানিশ, সাথে স্কিন কালো করে দেবে।
• লাস্টিং ডাবল করার ৪টে হ্যাক: আতর হোক বা পারফিউম:
প্রথমত, শাওয়ারের পর হালকা ভেজা স্কিনে আনসেন্টেড ভ্যাসলিন বা বডি অয়েল মাখো। তার উপর আতর বা পারফিউম দাও। অয়েল অয়েলকে ধরে রাখে, তাই স্মেল ২ গুণ বেশি সময় থাকবে। দ্বিতীয়ত, পালস পয়েন্টে দাও। কবজি, গলার দু’পাশ, কানের পিছনে, কনুইয়ের ভাঁজ। এই জায়গাগুলো গরম থাকে, তাই স্মেল ধীরে ধীরে ছাড়ে। তৃতীয়ত, কখনো ঘষবে না। কবজিতে মেখে ঘষলে হিটে টপ নোট পুড়ে যায় আর লাস্টিং কমে। শুধু চেপে ধরো। চতুর্থত, জামার ভিতর সাইডে বা কলারের নিচে ১ ফোঁটা আতর দাও। সরাসরি রোদ বা ঘাম লাগবে না, তাই কাপড়ে ২ দিন গন্ধ থাকবে। পারফিউম হলে শার্টের ভিতরে হাওয়ায় ১ স্প্রে।
ফাইনাল ভার্ডিক্ট: শুধু লাস্টিং চাইলে আতর ইজ দ্য কিং। ৬-১০ ঘণ্টা নো টেনশন। অফিস, কলেজ, মেট্রো, বাস চন্দন বা মিট্টি আতর মেখে বেরোও। কেউ কাছে এলে জিজ্ঞেস করবেই ‘কী মেখেছ?’। আর যদি চাও ৫ ফুট দূর থেকে লোকে টের পাক, তাহলে ফ্রেশ EDP পারফিউম মারো, কিন্তু পকেটে অ্যাটোমাইজার রাখো। ৩ ঘণ্টা পর টাচআপ মাস্ট।


