Education Tips: বই পড়েই ভুলে যান? পরীক্ষার আগে মুখস্থ হয় না? University of Waterloo-র গবেষণা বলছে, মনে মনে নয়, শব্দ করে পড়লেই ৮০% পর্যন্ত বেশি মনে থাকে। এর পিছনে রয়েছে 'প্রোডাকশন এফেক্ট' নামে এক মনস্তাত্ত্বিক ফর্মুলা। কোন বই কীভাবে পড়বেন, রইল বিস্তারিত গাইড।

Education Tips: ছোটবেলায় মা বকতেন - "জোরে জোরে পড়, না হলে পড়া মনে থাকবে না।" আমরা ভাবতাম, মনে মনে পড়লেই তাড়াতাড়ি সিলেবাস শেষ হবে। কিন্তু ১০০ বছর পর বিজ্ঞান এসে মায়ের কথাটাই প্রমাণ করে দিল।

মনোবিজ্ঞানে এর একটা নাম আছে - Production Effect। সহজ ভাষায়, আপনি যা নিজে তৈরি করেন, মানে মুখে বলেন, তা শুধু চোখে দেখার চেয়ে অনেক বেশি দিন মনে থাকে।

গবেষণা কী বলছে?

কানাডার University of Waterloo-র বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী Prof. Colin M. MacLeod এবং তার সহকর্মী Noah Forrin ৯৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ৪টি আলাদা পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন - ১) মনে মনে পড়া, ২) অন্যের পড়া শোনা, ৩) নিজের পড়া রেকর্ড শোনা, ৪) নিজে জোরে জোরে পড়া। ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। যারা নিজে জোরে পড়েছে, তাদের মনে রাখার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

পরে আরও এক গবেষণায় দেখা যায়, ৭-১০ বছরের বাচ্চারা জোরে পড়ে প্রায় ৮৭% শব্দ মনে রাখতে পেরেছে, আর মনে মনে পড়ে মাত্র ৭০%। PubMed-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শব্দ নয়, গোটা প্যারাগ্রাফ বা প্রবন্ধের ক্ষেত্রেও একই ফল। জোরে পড়া তথ্য ১ সপ্তাহ পরেও মনে থাকে, মনে মনে পড়া ভুলে যায়।

কেন এমন হয়?

যখন মনে মনে পড়েন, তখন মস্তিষ্কে শুধু ভিজ্যুয়াল মেমোরি কাজ করে। কিন্তু জোরে পড়লে একসঙ্গে তিনটে জিনিস হয় - চোখ দেখে (Visual), মুখ বলে (Motor Action), কান নিজের আওয়াজ শোনে (Auditory)। মস্তিষ্ক এই ট্রিপল অ্যাকশনকে একটা আলাদা, distinct ঘটনা হিসেবে ট্যাগ করে দেয়। তাই পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখলেই ওই ঘটনাটা মনে পড়ে যায়। গবেষকদের ভাষায়, "When we add an active measure, that word becomes more distinct in long-term memory."

তাহলে কি সব বই চিৎকার করে পড়ব? একদম না।

এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। একই গবেষণায় ৪টি comprehension টেস্টে দেখা গেছে, জোরে পড়লে শুধু Memory বাড়ে, কিন্তু বোঝার ক্ষমতা (Comprehension) বাড়ে না। অর্থাৎ সাল, তারিখ, নাম, সংজ্ঞা, ফর্মুলা, ভোকাবুলারির মতো তথ্য মনে রাখতে জোরে পড়া ব্রহ্মাস্ত্র। কিন্তু কোনও কঠিন থিওরি, গল্পের গভীর মানে বা অঙ্কের লজিক বুঝতে হলে মনে মনে ধীরে ধীরে পড়াই সেরা।

তাহলে বেস্ট স্ট্র্যাটেজি কী? 3-Layer Formula

১. বোঝার জন্য (Silent Reading): প্রথমবার পুরো চ্যাপ্টারটা মনে মনে পড়ে শুধু বোঝার চেষ্টা করুন। কোথাও আটকাবেন না। গুরুত্বপূর্ণ লাইন হাইলাইট করুন।

২. মনে রাখার জন্য (Loud Reading): এবার শুধু হাইলাইট করা অংশগুলো জোরে জোরে ২-৩ বার পড়ুন। মুখস্থ করার মতো করে নয়, বোঝানোর মতো করে পড়ুন।

৩. পাকা করার জন্য (Record & Listen): নিজের পড়া ফোনে রেকর্ড করে রাখুন। বাসে, হাঁটতে হাঁটতে শুনুন। নিজের গলা অন্যের গলার চেয়ে মস্তিষ্ক ১৫% বেশি মনে রাখে।

কোন বই কীভাবে পড়বেন?

গল্প, উপন্যাস: মনে মনে, রিল্যাক্স করে। এটা আনন্দের জন্য।

পাঠ্যবই, চাকরির পরীক্ষা, GK, ভোকাবুলারি: 70% মনে মনে + 30% জোরে।

প্রেজেন্টেশনের আগে: অবশ্যই জোরে। এতে জিভের জড়তা কাটবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

তাই মায়ের কথাটা মেনে নিন। পরীক্ষার আগের রাতে সব মনে রাখতে চাইলে বইকে ফিসফিস করে নয়, একটু আওয়াজ করেই পড়ুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।