বাঙালি বাড়িতে ভূত চতুর্দশী মানেই ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম। দীপাবলির আগের দিন চোদ্দো শাক খেয়ে, চোদ্দো প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তিকে দূর করার রীতি বহু প্রাচীন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই রীতির পিছনে লুকিয়ে আছে দারুণ এক আয়ুর্বেদিক বিজ্ঞান। আয়ুর্বেদাচার্যদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় আমাদের শরীরের ত্রিদোষ - বাত, পিত্ত ও কফের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
বাঙালি বাড়িতে ভূত চতুর্দশী মানেই ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম। দীপাবলির আগের দিন চোদ্দো শাক খেয়ে, চোদ্দো প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তিকে দূর করার রীতি বহু প্রাচীন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই রীতির পিছনে লুকিয়ে আছে দারুণ এক আয়ুর্বেদিক বিজ্ঞান। আয়ুর্বেদাচার্যদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় আমাদের শরীরের ত্রিদোষ - বাত, পিত্ত ও কফের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলেই জ্বর, সর্দি, পেটের সমস্যা, ত্বকের রোগ বাসা বাঁধে। আর এই ভারসাম্য ফেরাতে অব্যর্থ দাওয়াই হল এই ১৪টি শাক। শুধু একদিন নয়, যদি ১২ মাস ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই শাকগুলো খেতে পারেন, তাহলে সারা বছর থাকবেন সুস্থ।
কী কী আছে এই চোদ্দো শাকে?
শাস্ত্র মতে চোদ্দো শাক হল - ওল, কেঁউ, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাঁট, শুষণী। তবে বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য ১৪টি শাক হিসেবে ধরা হয় - পালং, লাল, নটে, পুঁই, কলমি, হিঞ্চে, কচু, ওল, বেথো, সর্ষে, মূলো, গিমা, সুষণি ও পাট শাক।
কোন শাক কীভাবে বাত-পিত্ত-কফ নিয়ন্ত্রণ করে?
১. বাত দোষ কমায়: আয়ুর্বেদে বাত বাড়লে হাড়ের ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিদ্রা হয়। পুঁই, বেথো, কচু ও ওল শাকে থাকা ফাইবার ও পিচ্ছিল গুণ বাতকে শান্ত করে। এরা হজম ভালো করে, বাতের ব্যথা কমায়।
২. পিত্ত দোষ কমায়: পিত্ত বাড়লে গা জ্বালা, অ্যাসিডিটি, ত্বকে ফুসকুড়ি, চুল পড়া হয়। হিঞ্চে, কলমি, পাট, পালং ও গিমা শাক শরীরকে ঠান্ডা রাখে। এরা লিভার পরিষ্কার করে, রক্ত শুদ্ধ করে, ফলে পিত্ত নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. কফ দোষ কমায়: কফ বাড়লে সর্দি, কাশি, ওজন বৃদ্ধি, অলসতা দেখা দেয়। সর্ষে, মূলো, নিম ও শুষণি শাকের তিক্ত ও ঝাল স্বাদ কফকে গলিয়ে দেয়। শীতকালে ও ঋতু বদলের সময় এই শাকগুলো বিশেষ উপকারী। এছাড়া সুষণি শাক মস্তিষ্কের জন্য অমৃত সমান, এটি স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও অনিদ্রা কমায়।
এক ফুঁয়ে উড়ে যাবে ৪০ রোগ, কীভাবে?
এই ১৪টি শাকে ভরপুর ভিটামিন A, C, K, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত খেলে রক্তাল্পতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, লিভারের সমস্যা, ত্বকের অ্যালার্জি, ব্রণ, চুল পড়া, চোখের সমস্যা, হাড়ের ক্ষয় - এমন ৪০টিরও বেশি রোগের ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বহুগুণ।
বছরভর কীভাবে খাবেন?
একসঙ্গে ১৪ রকম শাক খাওয়ার দরকার নেই। আয়ুর্বেদ বলছে, সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন ২-৩ রকম শাক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান। ভূত চতুর্দশীর মতো প্রচুর ঘি-তেলে ভাজা নয়, বরং কম তেলে হালকা সেদ্ধ, স্যুপ বা অন্য সবজির সঙ্গে ঘণ্ট করে খান, তবেই পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে। শিশু থেকে বয়স্ক, ডায়াবেটিস রোগী থেকে প্রেশারের রোগী - সবার পাতেই থাকুক প্রকৃতির এই ১৪ সঞ্জীবনী।












