অনেক মুমূর্ষু মানুষ মৃত্যুর আগে মৃত আত্মীয় বা প্রিয়জনকে স্বপ্নে দেখেন। একে বলে এন্ড অফ লাইফ ভিশন। বিজ্ঞান বলছে, এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন ও মানসিক শান্তি খোঁজার প্রক্রিয়া।

আপনি কি শুনেছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন বা কয়েক ঘণ্টা আগে অনেক মানুষ হঠাৎ করে বলেন, মা এসেছে নিতে, বা বাবাকে দেখতে পাচ্ছি? হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সরা প্রায়ই এই ঘটনার সাক্ষী হন। মৃত্যুর ঠিক আগে মৃত প্রিয়জনকে স্বপ্নে দেখা বা তাদের উপস্থিতি অনুভব করা খুব সাধারণ ঘটনা। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'এন্ড অফ লাইফ ড্রিমস অ্যান্ড ভিশনস'।

কিন্তু কেন এমন হয়? বিজ্ঞান এর পিছনে অলৌকিক কিছু খোঁজে না। এর তিনটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে।

প্রথমত, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন। মৃত্যুর আগে শরীরে অক্সিজেন কমে যায়, কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়ে। তখন মস্তিষ্ক প্রচুর ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং DMT নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এই রাসায়নিকগুলো হ্যালুসিনেশন বা দিবাস্বপ্ন তৈরি করে। মস্তিষ্ক তখন সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রিয় স্মৃতিগুলোকে সামনে আনে।

দ্বিতীয়ত, মানসিক শান্তি ও বিদায়ের প্রস্তুতি। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মৃত্যু একটি অজানা যাত্রা। সেই অজানা ভয় থেকে মন নিজেকে শান্ত করতে চায়। তাই অবচেতন মন এমন একজনকে কল্পনা করে, যার কাছে সে নিরাপদ বোধ করে। মৃত মা, বাবা বা সঙ্গীকে দেখলে মৃত্যুর ভয় কমে এবং মানুষ শান্তিতে বিদায় নিতে পারে। এটি মস্তিষ্কের নিজস্ব কপিং মেকানিজম।

তৃতীয়ত, স্মৃতির জাগরণ। সারা জীবনের স্মৃতি মস্তিষ্কে জমা থাকে। মৃত্যুর আগে যখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন মস্তিষ্ক পুরনো স্মৃতিগুলোকে রিওয়াইন্ড করতে শুরু করে। তাই ছোটবেলার বাড়ি, মৃত প্রিয়জনের মুখ ভেসে ওঠে।

গবেষণা বলছে, এই স্বপ্নগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভয়ের নয়, বরং শান্তির হয়। প্রায় ৮০% ক্ষেত্রে রোগীরা এই স্বপ্ন দেখার পর অনেক শান্ত হয়ে যান। তাই এটিকে খারাপ চোখে না দেখে, এটি মানুষের শেষ যাত্রাকে সহজ করার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন বিজ্ঞানীরা।