অনেকে ভাবেন ঘরের বাইরে, বারান্দায় বা জানালায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খেলে শিশুর ক্ষতি হয় না। চিকিৎসকরা বলছেন, এটা মারাত্মক ভুল। ধোঁয়া চলে যাওয়ার পরও নিকোটিন, টক্সিন জামাকাপড়, চুল, চামড়া, সোফা, পর্দায় লেগে থাকে।

“বাচ্চা ঘুমালে বারান্দায় গিয়ে দুটো টান দিই। ঘরে তো খাই না।” - এই ডায়লগ অনেক বাবার। মা-বাবারা ভাবেন দরজা বন্ধ করে, ফ্যান চালিয়ে, জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের করে দিলেই শিশু সেফ। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিগারেটের ধোঁয়া অদৃশ্য হলেও তার বিষ উবে যায় না। উল্টে ‘থার্ড হ্যান্ড স্মোক’ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনার সাথেই ঘোরে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. সেকেন্ড হ্যান্ড vs থার্ড হ্যান্ড স্মোক: তফাত কী? সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোক: আপনি সিগারেট খাওয়ার সময় পাশে যে ধোঁয়া থাকে, সেটা। শিশু সরাসরি নিঃশ্বাসে নেয়। ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানির অ্যাটাক হয়। থার্ড হ্যান্ড স্মোক: সিগারেট নেভানোর পরেও যে নিকোটিন, টার, আর্সেনিক, লেড আপনার জামা, চুল, দাড়ি, হাত, ফোন, সোফা, কার্পেটে লেগে থাকে। ঘরে ঢুকে আপনি বাচ্চাকে কোলে নিলে, চুমু খেলে, একই বিছানায় শুলে ওই টক্সিন শিশুর ত্বক দিয়ে, নিঃশ্বাস দিয়ে, হাত চুষে শরীরে ঢোকে। WHO বলছে, থার্ড হ্যান্ড স্মোকের কণা ৬ মাস পর্যন্ত ঘরে থেকে যেতে পারে। সাধারণ মোছা বা এয়ার ফ্রেশনারে যায় না।

২. বারান্দায় খেলেও কেন লাভ নেই? ৪টে কারণ ক. ধোঁয়া ঘরে ঢোকে: বাতাস সবসময় বাইরে থেকে ভিতরে আসে না। বারান্দার ধোঁয়া দরজার ফাঁক, জানালা, AC ভেন্ট দিয়ে ঘরে ঢোকে। খ. জামা-চুল ক্যারিয়ার: সিগারেটের ৭০০০+ কেমিক্যাল আপনার শার্ট, চুল, দাড়িতে আটকে যায়। আপনি ঘরে ঢুকে বাচ্চাকে কোলে নিলেই ও নিঃশ্বাসে নিচ্ছে। গ. হাত না ধুয়ে আদর: সিগারেট খাওয়ার পর হাতে নিকোটিন থাকে। ওই হাত না ধুয়ে বাচ্চার গাল টিপলে, খাবার খাওয়ালে ওর পেটে যাচ্ছে। ঘ. ডোজ ম্যাটার করে: শিশুর ফুসফুস, ইমিউন সিস্টেম বড়দের ৫ ভাগের ১ ভাগ। অল্প বিষেই নিউমোনিয়া, কানে পুঁজ, হাঁপানি, ব্রেন ডেভেলপমেন্টের ক্ষতি হয়। SIDS বা হঠাৎ বাচ্চার মৃত্যুর রিস্ক ২.৫ গুণ বাড়ে।

৩. শিশুর কী ক্ষতি হয়? ডাক্তারদের লিস্ট ১. হাঁপানি ও কাশি: সেকেন্ড/থার্ড হ্যান্ড স্মোক বাচ্চার এয়ারওয়ে সরু করে দেয়। বছরে ৫-৬ বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হতে পারে। ২. কানের ইনফেকশন: মিডল ইয়ারে ফ্লুইড জমে বারবার পুঁজ হয়, কানে যন্ত্র দিতে হয়। ৩. ফুসফুসের গ্রোথ কমে: বড় হয়েও লাং ক্যাপাসিটি কম থাকে। খেলাধুলায় হাঁপিয়ে যায়। ৪. মেনিনজাইটিস রিস্ক: ব্রেনের পর্দায় ইনফেকশনের চান্স বাড়ে। ৫. পড়াশোনায় সমস্যা: নিকোটিন ব্রেনের কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট নষ্ট করে। মনোযোগ, IQ কমে। ৬. ভবিষ্যতে স্মোকার হওয়া: বাবা-মাকে দেখে বাচ্চার ধূমপানের সম্ভাবনা ৪ গুণ বাড়ে।

৪. তাহলে উপায় কী? বাচ্চাকে সেফ রাখতে ৩টে স্টেপ:

স্টেপ ১: বাড়ি-গাড়ি ১০০% নো স্মোকিং জোন করো: বারান্দা, বাথরুম, ছাদ, গাড়ি - কোথাও না। “একটা খাবো” করলেও থার্ড হ্যান্ড স্মোক হবে। গেস্ট এলেও বাইরে যেতে বলো।

স্টেপ ২: খাওয়ার পর নিয়ম মানো বাইরে সিগারেট খেলে ঘরে ঢোকার আগে জামা পাল্টাও, চুল আঁচড়াও, মুখ ধোও, ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোও। তারপর বাচ্চাকে ধরো। ২০ মিনিট অপেক্ষা করো।

স্টেপ ৩: সবচেয়ে ভালো - ধূমপান ছেড়ে দাও জানি কঠিন। কিন্তু বাচ্চার জন্য এর চেয়ে বড় গিফট নেই। নিকোটিন গাম, প্যাচ, কাউন্সেলিং কাজে দেয়। সরকারি হাসপাতালে ‘কুইট টোব্যাকো ক্লিনিক’ আছে, ফ্রি-তে হেল্প করে। ন্যাশনাল টোব্যাকো কুইটলাইন।

সোজা কথা: “ঘরে খাই না” বলে নিজেকে বোকা বানাবেন না। আপনার একটা টানের দাম বাচ্চা হাসপাতালের বেডে দিতে পারে। ওর ফুসফুসটা এখনো কচি, ফিল্টার নেই। ওকে বাঁচাতে চাইলে সিগারেটকে গুডবাই বলুন।