হাই সুগার আছে বলে পুজোয় খাওয়া-দাওয়া বন্ধ? একদম নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু কৌশল মানলে পুজোর ভোগ, রোল, বিরিয়ানি খেয়েও ব্লাড সুগার কন্ট্রোলে রাখা যায়। রইল ডায়াবেটিকদের জন্য পুজো স্পেশাল গাইড।
পুজো মানেই পেটপুজো। ষষ্ঠীতে বিরিয়ানি, সপ্তমীতে ভোগের খিচুড়ি-লাবড়া-পায়েস, অষ্টমীতে লুচি-আলুর দম, আর রোজ রাতে রোল-চাউমিন। কিন্তু সুগার হাই থাকলে? মনে হয় সব আনন্দই শেষ।
একদম না। এন্ডোক্রিনোলজিস্টরা বলছেন, ডায়াবেটিস মানেই না খেয়ে থাকা নয়, বরং বুদ্ধি করে খাওয়া। এই ৫টি নিয়ম মানলে পুজোয় সব খেয়েও সুগার ১৪০-১৮০ এর মধ্যেই থাকবে।
১. খাওয়ার ক্রম বদলে ফেলুন - সুগারের ব্রহ্মাস্ত্র:
এটাই আসল খেলা। প্রথমে ফাইবার, তারপর প্রোটিন, শেষে কার্ব। অর্থাৎ, বিরিয়ানি খাওয়ার আগে এক বাটি শসা-টমেটো স্যালাড বা টক দই খান। ভোগের আগে লাবড়া তরকারি খান, খিচুড়ি পরে। ফাইবার আগে খেলে সুগার ধীরে বাড়ে, হঠাৎ স্পাইক করে না।
২. ভাত-লুচি-মিষ্টি একদম বাদ নয়, ভাগ করে খান:
এক প্লেট খিচুড়ির বদলে হাফ প্লেট নিন। লুচি ৪টের বদলে ২টো। পায়েস ১ বাটির বদলে ৩ চামচ। মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করলে দুপুরে খান, রাতে নয়। ভাগ করে খেলে (Portion Control) গ্লাইসেমিক লোড কমে। সঙ্গে প্রচুর জল খান।
৩. হাঁটাটা পুজোর মধ্যেই রাখুন:
ঠাকুর দেখা মানেই হাঁটা। এটাই আপনার ওষুধ। ভারী খাবার খাওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পর ১৫-২০ মিনিট জোরে হাঁটুন। এতে খাবারের গ্লুকোজ সঙ্গে সঙ্গে বার্ন হয়ে যায়, সুগার জমে না। লিফট নয়, প্যান্ডেলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
৪. ভাজাভুজি বাদ দিয়ে বেকড/তন্দুর:
পুজোয় তেলে ভাজা রোল, চপ, কাটলেট সুগার ও কোলেস্টেরল দুটোই বাড়ায়। তার বদলে তন্দুরি চিকেন, চিকেন টিক্কা, ঘুগনি (তেল ছাড়া), ফুচকায় মিষ্টি জলের বদলে টক জল বেছে নিন। মিষ্টি দইয়ের বদলে টক দই।
৫. মিষ্টি পানীয় ও অ্যালকোহলকে না:
পুজোয় কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটের ফ্রুট জুস, মকটেল - এগুলো সুগারের যম। এক বোতল কোল্ড ড্রিংকস = ৮-৯ চামচ চিনি। তার বদলে ডাবের জল, লেবু জল (চিনি ছাড়া), গ্রিন টি খান। খালি পেটে একদম মিষ্টি খাবেন না।
বাড়তি টিপস:
- - ওষুধ বা ইনসুলিন কখনও স্কিপ করবেন না, ব্যাগে রাখুন।
- - বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে রক্তে শর্করা মেপে নিন।
- - রাত জাগলে পরদিন সকালে কার্ব কম খান।
- সুগার আছে বলে মন খারাপ করবেন না। পুজো ৫ দিন, জীবন অনেক বড়। বুদ্ধি করে খান, আনন্দে থাকুন।
