পুজোয় হেঁটে পায়ে যন্ত্রণা? প্যান্ডেল হপিংয়ের পর পা ফুলে, ব্যথায় টনটন? রাতভর হাঁটার পরের দিন আর বেরোতে পারছেন না? চিন্তা নেই, কয়েক মিনিটে আরাম পেতে এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো ট্রাই করুন।

পুজো মানেই সারা রাত ধরে প্যান্ডেল হপিং। নতুন জুতো, উঁচু হিল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো, আর তারপর পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। সপ্তমী, অষ্টমী নবমী দশমী চলে গেলেই তার পর থেকে সকালে মনে হয় পা আর চলছে না। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে দামি ওষুধ নয়, বাড়িতেই কয়েক মিনিটে আরাম পাবেন।

রইল কয়েকটি টিপস

১. গরম জলে নুন দিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন এটা সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে কার্যকরী। একটা বালতিতে সহ্য করার মতো গরম জল নিন, তাতে ২ চামচ নুন (পারলে সৈন্ধব লবণ) মিশিয়ে দিন। ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পায়ের পেশীর টান, ফোলা ভাব নিমেষে কমে যাবে। রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, ক্লান্তি দূর হবে।

২. বরফ সেঁক যদি পা ফুলে যায় বা গোড়ালিতে টনটনে ব্যথা হয়, তাহলে বরফ দারুণ কাজ দেয়। একটা কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ মুড়ে পায়ের তলায়, গোড়ালিতে ৫-৭ মিনিট ঘষুন। একটানা বরফ লাগাবেন না, ১ মিনিট পর পর সরিয়ে নিন।

৩. সর্ষের তেল মালিশ ঠাকুমার টোটকা, কিন্তু আজও সেরা। রাতে শোবার আগে হালকা গরম সর্ষের তেল নিয়ে পায়ের তলা থেকে হাঁটু পর্যন্ত ৫ মিনিট মালিশ করুন। তেল গরম থাকায় পেশী রিল্যাক্স হবে, ব্যথা কমবে। তারপর একটা মোজা পরে শুয়ে পড়ুন, সকালে দেখবেন পা হালকা।

৪. পা উঁচু করে রাখুন সারাদিন হাঁটার পর বাড়ি ফিরে ১০ মিনিট দেয়ালে পা ঠেকিয়ে উঁচু করে শুয়ে থাকুন। পায়ের নিচে ২টো বালিশ দিন। এতে পায়ে জমে থাকা জল, ফোলা ভাব কমে যায়। যাঁদের ভেরিকোজ ভেইন বা পা ফোলার সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য এটা খুব উপকারী।

৫. স্ট্রেচিং জুতো খুলে মেঝেতে একটা টেনিস বল বা জলের বোতল রেখে পায়ের তলা দিয়ে ২ মিনিট রোল করুন। আঙুলগুলো টেনে, ঘুরিয়ে স্ট্রেচ করুন। এই ছোট্ট ব্যায়ামেই পায়ের টান ধরা ভাব একেবারে চলে যাবে।

এই ছোট ছোট নিয়মগুলো মেনে চললে পায়ের ব্যথা পুজোর আনন্দে কোনও বাধা তৈরি করতে পারবে না। তাই পায়ে আরাম দিন আর সুস্থ শরীরে এবার পরের পুজো গুলো চুটিয়ে উপভোগ করুন।