পুজো মানেই নতুন জামা, জুতো আর উপহারের লম্বা লিস্ট। আর এই লিস্ট সামলাতে গিয়েই মাসের শেষে পকেট ফাঁকা। চিন্তা নেই, এই ৯টি স্মার্ট টিপস মানলেই পুজোর কেনাকাটা হবে বাজেটের মধ্যেই।

URL:

Keywords:

Sarangsho:

পুজো মানেই বাঙালির কাছে ইমোশন, আর সেই ইমোশনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নতুন জামাকাপড়ের আনন্দ। নিজের জন্য, মা-বাবার জন্য, প্রিয় মানুষের জন্য শপিং না করলে পুজোটাই যেন অসম্পূর্ণ লাগে। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই একটা চাপা টেনশন থাকে, মাসের শেষে পকেট ফাঁকা হয়ে যাবে না তো? ক্রেডিট কার্ডের বিল দেখে মাথায় হাত পড়বে না তো?

আসলে একটু বুদ্ধি করে চললেই পুজোর শপিংও হবে, আবার টাকাও বাঁচবে। তার জন্য দরকার শুধু একটু প্ল্যানিং। রইল ৯টি ট্রাইড অ্যান্ড টেস্টেড টিপস।

১. লিস্ট বানান, বাজেট বাঁধুন: শপিংয়ে বেরনোর আগে খাতায় লিখে ফেলুন কার জন্য কী কিনবেন। বাবার জন্য পাঞ্জাবি, মায়ের জন্য শাড়ি, নিজের জন্য দুটো কুর্তি - এভাবে। আর পুরো পুজোর জন্য একটা ফিক্সড বাজেট ঠিক করুন, যেমন ১৫ হাজার। লিস্টের বাইরে একটা টাকাও খরচ করবেন না। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ ৫০% কমে যাবে।

২. আগে থেকে কেনাকাটা শুরু করুন: পুজোর ১৫ দিন আগে সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া থাকে। দোকানদাররাও জানেন আপনি কিনতে বাধ্য। তাই চেষ্টা করুন আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে কেনাকাটা সেরে ফেলতে। তখন অনলাইনেও ‘End of Season Sale’ চলে।

৩. অনলাইন ও অফলাইন দাম যাচাই করুন: একটা জামা দোকানে ১২০০ টাকা বলছে? সঙ্গে সঙ্গে কিনবেন না। মোবাইলে একবার Myntra, Ajio বা Amazon-এ একই জিনিসের দাম দেখে নিন। অনেক সময় একই প্রোডাক্ট অনলাইনে ৩০% কমে পাওয়া যায়। আবার উল্টোটাও হয়, তাই দুটোই চেক করুন।

৪. ব্যাঙ্ক অফার, কুপন ও ক্যাশব্যাক ব্যবহার করুন: পুজোর সময় HDFC, SBI, ICICI সব ব্যাঙ্কেই ১০% ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট দেয়। সঙ্গে থাকে PhonePe, GPay-র ক্যাশব্যাক। কেনাকাটার আগে কোন কার্ডে কী অফার আছে দেখে নিন। একটা ২০০০ টাকার জামায় ২০০ টাকা বাঁচলেও অনেক।

৫. মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করুন, ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোব বানান: প্রতিদিনের জন্য আলাদা আলাদা দামি জামা না কিনে, এমন ৩-৪টে জামা কিনুন যেগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরা যায়। যেমন, একটা সাদা চিকনকারি কুর্তি দিয়ে একদিন পালাজো, আরেকদিন জিন্স পরুন। একটা সিল্কের শাড়ির সঙ্গে দুটো আলাদা ব্লাউজ - লুক বদলে যাবে, খরচ বাঁচবে।

৬. ব্র্যান্ড নয়, লোকাল মার্কেটে নজর দিন: পুজোর শাড়ি বা পাঞ্জাবি মানেই যে ব্র্যান্ডেড শোরুমে যেতে হবে এমন নয়। গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, কলেজ স্ট্রিট, বড়বাজারে অনেক কম দামে দারুণ কোয়ালিটির জিনিস পাবেন। শুধু একটু দরদাম করতে জানতে হবে।

৭. পুরনো জামাকে নতুন লুক দিন: আলমারিতে পড়ে থাকা গত বছরের পুজোর শাড়িটা কি আর পরবেন না? ফেলে না রেখে একটু বুদ্ধি লাগান। একটা নতুন ডিজাইনার ব্লাউজ বা নতুন ওড়না যোগ করুন, টেইলারের কাছে গিয়ে কুর্তির হাতা বদলে নিন। ৩০০ টাকায় নতুন জামার ফিল পাবেন।

৮. ফ্যামিলি শপিং করুন, হোলসেলে কিনুন: একা না কিনে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে কিনুন। অনেক দোকানে ৩টে কিনলে ১টা ফ্রি বা ৫০০০ টাকার ওপরে কেনাকাটায় ২০% ছাড় দেয়। এতে সবারই টাকা বাঁচে।

৯. ইমপালসিভ কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন - ২৪ ঘণ্টা রুল: দোকানে গিয়ে একটা জামা দেখে হঠাৎ মনে হল, ‘আরে এটা না কিনলেই নয়’। তখনই কিনবেন না। নিজেকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। বাড়ি ফিরে ভাবুন, সত্যিই ওটা দরকার কিনা। ৯০% ক্ষেত্রে দেখবেন পরের দিন আর কেনার ইচ্ছেটা থাকছে না।

এই টিপসগুলো মেনে চললে পুজোর আনন্দও থাকবে, আর পকেটও থাকবে ভরা।