- Home
- Lifestyle
- Lifestyle Tips
- Kidney Damage Symptoms: কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীর কী সংকেত দেয় জানেন? জানলে চমকে যাবেন
Kidney Damage Symptoms: কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীর কী সংকেত দেয় জানেন? জানলে চমকে যাবেন
আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে কিডনির ভূমিকা অনেক। রক্ত, খাবার আর জল থেকে দরকারি পুষ্টি শুষে নেয় কিডনি। এরপর শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য বাইরে বের করে দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।

কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়
কিডনি রক্ত, খাবার ও জল থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। এরপর শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য বাইরে বের করে দেয়। কিডনি যখন রক্ত থেকে এই বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই মারাত্মক বিপদ ঘনিয়ে আসে।

কিডনি রোগের লক্ষণগুলো অনেক সময়ই নীরবে আসে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)-এ ভুগছেন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বড় ক্ষতি হওয়ার আগে কিডনি রোগের লক্ষণগুলো সেভাবে বোঝাই যায় না। তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে জীবনযাত্রায় বদল আনা খুব জরুরি। কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়, তা জেনে নিন।
পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দেয়
কিডনির কাজ ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের নিচের অংশে, বিশেষ করে পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দেয়। অনেক সময় মুখ ও হাতেও জল জমে যায়। শরীর ফুলে যাওয়া কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। কিডনি যখন শরীরের অতিরিক্ত জল বের করতে পারে না, তখনই এমনটা ঘটে।
রক্তে শর্করার উচ্চমাত্রা কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে নষ্ট করে
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে তা ধীরে ধীরে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে নষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ফিল্টারিং ইউনিটগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ ফেলে। তাই নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখাই ক্রনিক কিডনি রোগ প্রতিরোধের সেরা উপায়।
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে থাকে। এর ফলে রক্তে লোহিত কণিকা কমে গিয়ে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। এই কারণে সারাক্ষণ ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতা কাজ করে। এমনকি দৈনন্দিন সাধারণ কাজ করতেও কষ্ট হয়।
রাতে বারবার প্রস্রাব পাওয়া এবং প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া
প্রস্রাবের অভ্যাসে হঠাৎ বদল আসা কিডনি রোগের বড় সংকেত। বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাব পাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, ফেনা হওয়া বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরও যদি প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
হরমোনের মাত্রায় হেরফের হলেই কিডনির ক্ষতি শুরু হয়
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের প্রচণ্ড ক্লান্তি লাগে। পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও এই ক্লান্তি কাটে না। আসলে 'এরিথ্রোপোয়েটিন' (erythropoietin) নামের একটি হরমোন আমাদের কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে। শরীরে এই হরমোনের মাত্রায় কোনো হেরফের হলেই কিডনির ক্ষতি হতে শুরু করে।
প্রস্রাব চেপে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে
কাজের চাপে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস ব্লাডারে মারাত্মক চাপ ফেলে। এতে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই (UTI)-এর ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় ব্লাডার ভরে গিয়ে প্রস্রাব উল্টো কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে কিডনির কাজ ব্যাহত হয় এবং পাথর জমার ঝুঁকি তৈরি হয়।
রক্তাল্পতার কারণে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে। এর ফলে সামান্য কাজ করলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পাশাপাশি রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে।
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া ও রক্ত পড়া কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ
প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন আসা কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া কিডনি নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া বা প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়াও কিডনি বিকল হওয়ার স্পষ্ট সংকেত।
ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানি দেখা দেয়
কিডনি রক্ত থেকে যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করতে সাহায্য করে। কিন্তু কিডনির কাজ ব্যাহত হলে শরীরে ক্ষতিকর টক্সিন জমতে শুরু করে। এর ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং র্যাশ, চুলকানি ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News