পুজোর আগে রোগা হতে গিয়ে কি ঘি, মাখন একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন? ভাবছেন ফ্যাট খেলেই মোটা হবেন? পুষ্টিবিদরা বলছেন উল্টোটা। সঠিক পরিমাণে ঘি-মাখন খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। পুজোর আগে কোন ডায়েট মেনে চললে ফল পাবেন, জানুন।

পুজোর আগে রোগা হতে গিয়ে কি ঘি, মাখন একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন? ভাবছেন ফ্যাট খেলেই মোটা হবেন? পুষ্টিবিদরা বলছেন উল্টোটা। সঠিক পরিমাণে ঘি-মাখন খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। পুজোর আগে কোন ডায়েট মেনে চললে ফল পাবেন, জানুন।

পুজোর আগে রোগা হতে গিয়ে কি ঘি, মাখন একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন? ভাবছেন ফ্যাট খেলেই মোটা হবেন? পুষ্টিবিদরা বলছেন উল্টোটা। সঠিক পরিমাণে ঘি-মাখন খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। পুজোর আগে কোন ডায়েট মেনে চললে ফল পাবেন, জানুন।

বাঙালির পুজো মানেই নতুন জামা, আর নতুন জামায় নিজেকে একটু রোগা দেখানোর ইচ্ছে। তাই অনেকেই পুজোর এক মাস আগে থেকে ডায়েট শুরু করেন। আর ডায়েট মানেই প্রথমে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ যায় ঘি আর মাখন। অনেকের ধারণা, এই দুটি খাবার খেলেই ওজন হু হু করে বাড়ে।

কিন্তু সত্যিটা হল, ঘি-মাখন খেলে সরাসরি ওজন বাড়ে না। ওজন বাড়ে বা কমে টোটাল ক্যালোরি ব্যালেন্সের উপর। আপনি সারাদিনে যত ক্যালোরি খরচ করছেন, তার থেকে কম ক্যালোরি খেলে ওজন কমবে, আপনি ঘি খান বা না খান।

ঘি-মাখন কি আসলেই খারাপ?

ঘি আর মাখন হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট, তাই বেশি খেলে ক্যালোরি অনেক বেড়ে যায়। ১ চা চামচ ঘিতে প্রায় ৪৫ ক্যালোরি এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে। কিন্তু অল্প পরিমাণে খেলে এর উপকারিতাও আছে।

১. ঘিতে বিউটারিক অ্যাসিড থাকে, যা হজমে সাহায্য করে।

২. এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার খিদে পায় না এবং উল্টোপাল্টা স্ন্যাকস খাওয়া কমে।

৩. ভিটামিন A, D, E, K শোষণের জন্য ফ্যাট দরকার, ঘি সেই কাজে সাহায্য করে।

সমস্যা হয় যখন আমরা ঘি দিয়ে ভাজা পরোটা, বিরিয়ানি, লুচি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাই। তখন ফ্যাটের সঙ্গে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট আর ক্যালোরি একসঙ্গে ঢোকে।

পুজোর আগে কোন ডায়েট মেনে চলবেন?

কোনও একটি নির্দিষ্ট নামের ডায়েট যেমন কিটো ডায়েট না করে, বরং ব্যালেন্সড ক্যালোরি ডেফিসিট ডায়েট সবচেয়ে নিরাপদ। পুষ্টিবিদরা বলেন, দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ ক্যালোরি কম খেলে সপ্তাহে ০.৫ কেজি করে সুস্থভাবে ওজন কমে।

সকালে: ১ চামচ ঘি দিয়ে ওটস বা চিড়ের পোলাও সঙ্গে প্রচুর সবজি এবং ১টি ডিম।

দুপুরে: ১ কাপ ভাত বা ২টি রুটি + ১ বাটি ডাল + ১ চা চামচ ঘি + মাছ বা মুরগি ১০০ গ্রাম + শসা, গাজরের সালাদ।

বিকেলে: ছানা বা টক দই বা এক মুঠো বাদাম।

রাতে: ২টি রুটি + হালকা সবজি + ডাল। রাতে ঘি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

যা একদম করবেন না:

১. সকালে খালি পেটে ২ চামচ ঘি খেয়ে ওজন কমানোর ভাইরাল ট্রিক বিশ্বাস করবেন না, এতে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে।

২. মাখন ভেবে বাজার চলতি ডালডা বা মার্জারিন খাবেন না, এতে ট্রান্স ফ্যাট থাকে যা হার্টের জন্য ক্ষতিকর।

৩. পুজোর আগে জল কম খাওয়া, সারাদিন না খেয়ে থাকা একদম নয়।

বাড়তি টিপস:

দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল, ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা এবং রাতে ৭ ঘণ্টা ঘুম ওজন কমানোর ওষুধের মতো কাজ করে। চিনি, কোল্ড ড্রিংক, প্যাকেটের চিপস, বাইরের ভাজাভুজি বাদ দিলে ঘি-মাখন খেয়েও আপনি পুজোর আগে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত সুস্থভাবে ওজন কমাতে পারবেন।

আপনার যদি ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার বা হার্টের রোগ থাকে, তাহলে ডায়েটে কোনও বড় পরিবর্তনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।