মাঝে মধ্যেই মাথাব্যথায় ছটফট করা থেকে আরাম পাবেন সহজেই, রইল কার্যকরী টিপস
মাঝে মধ্যেই মাথাব্যথায় ছটফট করা থেকে আরাম পাবেন সহজেই, রইল কার্যকরী টিপস

মাথাব্যথা সব বয়সী মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা, যা খুব বিরক্তিকর হতে পারে। মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা এবং ঘুমের অভাব থেকে শুরু করে উজ্জ্বল আলো, জোরে শব্দ ইত্যাদির মতো বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। মাথাব্যথার লক্ষণগুলি এর কারণ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ মাথাব্যথা কোনও গুরুতর রোগের ফলে হয় না, তবে কিছু জীবন-হুমকির কারণে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
মাথাব্যথার চিকিৎসায় ওষুধ ছাড়াই ব্যথা উপশম, পানি পান, বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত। মাথাব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
পানিশূন্যতা
শরীরে পর্যাপ্ত তরল না থাকলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়। এটি খুলি থেকে দূরে সরে যায়, যার ফলে মাথাব্যথা হয়। হালকা পানিশূন্যতাও মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, আপনার সবসময় পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপ
মানসিক বা শারীরিক চাপ টেনশন মাথাব্যথার দিকে পরিচালিত করে, যা খুব সাধারণ ধরণের। মানসিক চাপ মাথা এবং ঘাড়ের পেশীগুলিকে শক্ত করে, যা ব্যথা সৃষ্টি করে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ আপনার মাথাব্যথাকে আরও খারাপ বা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।
খারাপ ভঙ্গি
অস্বস্তিকর অবস্থায় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকলে আপনার ঘাড় এবং কাঁধের পেশীগুলি ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং টেনশন মাথাব্যথা সৃষ্টি করে। টেবিলে দীর্ঘ সময় কাটানো বা ঝুঁকে কাজ করা ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে, যার ফলে মাথায় ছড়িয়ে পড়া ব্যথা হয়।
খাদ্যের ভারসাম্যহীনতা
প্রক্রিয়াজাত মাংস, অ্যালকোহল, ক্যাফিন এবং মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) এর মতো অতিরিক্ত সংযোজনযুক্ত খাবার এবং পানীয় মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এই উপাদানগুলি রক্ত প্রবাহ বা স্নায়ু সংবেদনশীলতায় পরিবর্তন ঘটায়, যার ফলে ব্যথা হয়। তাই, খাদ্যের উপাদানগুলি পর্যবেক্ষণ করা ভবিষ্যতে মাথাব্যথা এড়াতে সাহায্য করবে।
মাথাব্যথা প্রতিরোধের টিপস
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা মাথাব্যথার একটি প্রধান কারণ পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। সবসময় পানির বোতল রাখা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করবে।
নিয়মিত ঘুম
প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং টেনশন বা মাইগ্রেনের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা যোগব্যায়ামের মতো মানসিক চাপ কমানোর কৌশলগুলি অনুশীলন করুন। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ শরীরে চাপ কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে মানসিক চাপজনিত মাথাব্যথা প্রতিরোধ করে।
ভঙ্গি উন্নত করুন
আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ টেবিলে বসে থাকেন, তাহলে ভাল ভঙ্গি বজায় রাখুন। ঘাড়, কাঁধ এবং মেরুদণ্ড সঠিকভাবে সারিবদ্ধ করা পেশীতে চাপ কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে টেনশন মাথাব্যথা প্রতিরোধ করে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং প্রাকৃতিক ব্যথা উপশমকারী এন্ডোরফিন নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। ব্যায়াম মাথাব্যথার ঘন ঘন হওয়া কমায়।
ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল সীমিত করুন
অতিরিক্ত ক্যাফিন বা অ্যালকোহল সেবন মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এই উপাদানগুলি সীমিত করা বা এড়িয়ে চলা খাদ্যজনিত মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
সুষম খাবার খান
কম রক্তে শর্করার কারণে মাথাব্যথা এড়াতে নিয়মিত খাবারের সময়সূচী সহ পুষ্টিকর খাবার খান। খাবার এড়িয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News