চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।

কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করে, শরীরের জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।

কিডনিকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা জরুরি। এতে শরীরের বর্জ্য সহজে বেরিয়ে যায় এবং কিডনির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে। তবে কারও যদি কিডনির রোগ বা হৃদ্‌রোগ থাকে, তাহলে কতটা জল পান করা উচিত সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবর্তে শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য এবং পরিমিত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস কিডনি ক্ষতির প্রধান ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।

ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে এবং কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপানও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব অভ্যাস থেকে দূরে থাকাই ভাল।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক বা অন্যান্য ওষুধ সেবন কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কোনো ওষুধ নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয় এবং জটিলতার ঝুঁকিও কমে।

কিডনির সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর। পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এড়িয়ে চলার মাধ্যমে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।