অনেক গাছ বীজের বদলে কাটিং, কন্দ, কুঁড়ি বা ফলমূল থেকেই তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে গাছ দ্রুত বাড়ে এবং ফলও দেয় বেশি ভাল। আলু, পুদিনা এবং আদা খুব সহজেই বাড়ির টবে বা বাগানে ফলানো যায়। এই পদ্ধতিতে চারা দ্রুত বাড়ে এবং ফলনও ভালো হয়।

বীজ পুঁতে নয়, বরং কাটিং (ডাটা) বা কন্দ ব্যবহার করে আলু, পুদিনা এবং আদা খুব সহজেই বাড়ির টবে বা বাগানে ফলানো যায়। এই পদ্ধতিতে চারা দ্রুত বাড়ে এবং ফলনও ভালো হয়। কন্দ থেকে নতুন চারা গজায়, আবার ডালপালা থেকে কাটিংয়ের মাধ্যমে শিকড় বের হয়ে গাছ তৈরি হয়।

কোনও কোনও গাছের ক্ষেত্রে বীজবপন আদপে বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দেখা যায়, বহু ক্ষেত্রে বীজ পুঁতলে খুব ধীরে চারা বাড়ে, ঠিক মতো অঙ্কুরোদ্গম হয় না, অথবা মূল গাছের মতো বৈশিষ্ট্যও পাওয়া যায় না। তাই অনেক গাছ বীজের বদলে কাটিং, কন্দ, কুঁড়ি বা ফলমূল থেকেই তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে গাছ দ্রুত বাড়ে এবং ফলও দেয় বেশি ভাল। তাই নিজের বাড়ির বাগানে কিছু গাছ লাগানোর সময়ে বীজের বিকল্প খুঁজে বার করা দরকার।

নিচে বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া হলো:

১. আলু (Potato) - কন্দ রোপণ

• কৌশল: আলুর ক্ষেত্রে সরাসরি বীজ না পুঁতে 'আই' বা চোখ থাকা পুরনো আলু ব্যবহার করুন।

• পদ্ধতি: একটি পুরনো আলুতে যদি ছোট ছোট শিকড় বা অঙ্কুর (চোখ) বের হয়, তবে সেটি ২-৩ টুকরো করে কাটুন, যাতে প্রতিটি টুকরোয় অন্তত একটি করে চোখ থাকে। টুকরোগুলো ১-২ দিন রেখে শুকিয়ে নিন। এরপর মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণে তৈরি টবে ৩-৪ ইঞ্চি গভীরে পুঁতে দিন।

২. পুদিনা পাতা (Mint) - কাটিং বা ডাল রোপণ

• কৌশল: বাজার থেকে কেনা পুদিনা পাতার কচি ডাল বা ডাটা ব্যবহার করুন।

• পদ্ধতি: পুদিনা পাতার ভালো কচি ডাল নিয়ে নিচের দিকের পাতাগুলো ফেলে দিন। এবার ডালটির নিচের অংশ একটি জলের পাত্রে ডুবিয়ে রাখুন বা সরাসরি ভেজা মাটিতে পুঁতে দিন। কিছুদিন পর শিকড় বের হয়ে নতুন চারা গজাবে।

৩. আদা (Ginger) - কন্দ বা রাইজোম রোপণ

• কৌশল: রান্নায় ব্যবহৃত আদার কন্দ (রাইজোম) ব্যবহার করুন।

• পদ্ধতি: একটি আদার টুকরো যাতে অন্তত একটি বা দুটি চোখ (ছোট কুঁড়ি) থাকে, সেটি নিয়ে মাটিতে পোঁতার ২-৩ ঘণ্টা আগে জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর টবের মাটিতে ২ ইঞ্চি গভীরে রোপণ করুন। আদা গাছ হতে সময় বেশি নিলেও এটি খুব সহজে বংশবৃদ্ধি করে।

*বিশেষ টিপস:*

• মাটির সঙ্গে কোকোপিট এবং ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে নিলে চারা দ্রুত গজাবে।

• শিকড় দ্রুত গজানোর জন্য 'কাটিং এইড' বা রুটিং হরমোন ব্যবহার করা যেতে পারে।