রোদে বেরোলেই মুখে কালো ছোপ, হাত-পা পুড়ে দুই রঙা হয়ে যাওয়া এখন ঘরে ঘরে সমস্যা। দামি ডি-ট্যান ফেসিয়াল না করেও রান্নাঘরের বেসন, টক দই আর আলুর রস দিয়ে সহজেই ট্যান তোলা যায়। বেসন মরা চামড়া তুলে দেয়, টক দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক ব্লিচ করে, আলুর রসে থাকা ক্যাটেকোলেজ এনজাইম কালো দাগ হালকা করে।
গ্রীষ্মে রোদের তাপে রাস্তায় বেরোলেই মুখ, গলা, হাত পুড়ে যাচ্ছে। সানস্ক্রিন মাখলেও বিকেলের দিকে ত্বক তামাটে হয়ে যায়। পার্লারে গিয়ে ডি-ট্যান করাতে ৮০০-১৫০০ টাকা খরচ, আবার কেমিক্যালে ত্বক আরও সেনসিটিভ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। রূপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যান তোলার সবচেয়ে সেফ আর সস্তা উপায় লুকিয়ে আছে আপনার রান্নাঘরেই। শুধু বেসন, টক দই আর কাঁচা আলু দিয়ে বানানো প্যাক নিয়ম করে লাগালেই ৭ দিনে তফাত বুঝবেন।

এই প্যাকটা কাজ করে কারণ তিনটে উপকরণের তিন রকম গুণ আছে। বেসন হল প্রাকৃতিক স্ক্রাব। এটা ত্বকের উপর জমে থাকা মরা চামড়া, ধুলো-ময়লা, অতিরিক্ত তেল তুলে দিয়ে রোমকূপ পরিষ্কার করে। ফলে স্কিন সাথে সাথে এক শেড ফর্সা লাগে। টক দইয়ের মধ্যে থাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা খুব মাইল্ড ব্লিচের কাজ করে। এটা রোদে পুড়ে হওয়া মেলানিন ভেঙে দিয়ে দাগ হালকা করে আর ত্বককে ভিতর থেকে ময়েশ্চারাইজ করে। আর কাঁচা আলুর রসে থাকে ক্যাটেকোলেজ নামের একটা এনজাইম, যা ডার্ক স্পট, পিগমেন্টেশন, চোখের তলার কালি কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তিনটে একসাথে মিশলে একটা কমপ্লিট ডি-ট্যান প্যাক তৈরি হয় যা স্ক্রাবিং, ব্লিচিং আর হিলিং একসাথে করে।
বানানোর পদ্ধতিও খুব সহজ। একটা মাঝারি আলু গ্রেট করে পাতলা কাপড়ে চেপে ২ চামচ রপিস বের করে নিন। এবার একটা বাটিতে ২ চামচ বেসন, ১ চামচ ঘরে পাতা টক দই আর ওই ২ চামচ আলুর রস ভালো করে মিশিয়ে থকথকে পেস্ট বানান। চাইলে এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো দিতে পারেন, অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করবে। মুখ ধুয়ে হালকা ভেজা ত্বকে এই প্যাকটা মুখ, গলা, হাত-পায়ের রোদে পোড়া অংশে সমান করে লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন, কিন্তু একদম শুকিয়ে ক্র্যাক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। হালকা ভেজা থাকতে থাকতেই আঙুলে একটু জল নিয়ে সার্কুলার মোশনে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে বেসন স্ক্রাবের কাজ করবে আর ভিতরের ময়লা উঠে আসবে। তারপর ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। সাবান বা ফেসওয়াশ একদম দেবেন না, তাহলে প্যাকের গুণ নষ্ট হয়ে যাবে। মুখ মুছে অ্যালোভেরা জেল বা কোনো হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
সেরা রেজাল্টের জন্য সপ্তাহে ৩ দিন, একদিন বাদে একদিন লাগান। রাতে লাগানো সবচেয়ে ভালো কারণ প্যাক ধোয়ার পর ৬-৭ ঘণ্টা রোদে না বেরোনোই নিয়ম। দিনের বেলায় লাগালে ধোয়ার পর অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে বেরোবেন। টানা ২ সপ্তাহ ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ ৭০-৮০% কমে যায় আর স্কিনে একটা ন্যাচারাল গ্লো আসে। যাদের হাত-পা খুব কালো হয়ে গেছে, তারা এই প্যাকের সাথে এক চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে পারেন, তবে মুখে লেবু দেবেন না, জ্বালা করতে পারে।
তবে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখা জরুরি। আপনার ত্বক যদি খুব সেনসিটিভ হয়, বা মুখে অ্যাকনে, কাটা-ছেঁড়া থাকে, তাহলে প্রথমে কানের পিছনে একটু লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নিন। চুলকানি বা লাল হলে লাগাবেন না। টক দইটা যেন বেশি টক না হয়, তাহলে জ্বালা করতে পারে। আলুর রস বানিয়ে সাথে লাগান, ফেলে রাখলে কালো হয়ে গুণ নষ্ট হয়ে যায়। আর সবচেয়ে বড় কথা, শুধু প্যাক লাগালেই হবে না। রোদে বেরোনোর ২০ মিনিট আগে SPF 50 সানস্ক্রিন মাখুন, ৩ ঘণ্টা পর রি-অ্যাপ্লাই করুন, ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। নাহলে আবার ট্যান পড়বে।
সোজা কথা, দামি প্রোডাক্টের পিছনে না ছুটে সপ্তাহে তিন দিন ১৫ মিনিট সময় দিন। খরচ হবে ১০ টাকাও না, অথচ পার্লারের মতো গ্লো পাবেন ঘরে বসেই। ত্বক ভিতর থেকে সুস্থ থাকলে উজ্জ্বলতা এমনিই আসবে।
