আপনিও কি তাদের মধ্যে একজন, যারা রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবেন ৫ মিনিট রিল দেখে ঘুমিয়ে পড়বেন, কিন্তু কখন যে ১ ঘণ্টা কেটে যায় টেরই পান না? এই ৫ মিনিটের নেশাই এখন ভিলেন। কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, রাত জেগে একটানা রিল দেখার অভ্যাস বা ডুম স্ক্রলিং অল্প বয়সিদের হার্টকে বুড়িয়ে দিচ্ছে।
আপনিও কি তাদের মধ্যে একজন, যারা রাতে বিছানায় শুয়ে ভাবেন ৫ মিনিট রিল দেখে ঘুমিয়ে পড়বেন, কিন্তু কখন যে ১ ঘণ্টা কেটে যায় টেরই পান না? এই ৫ মিনিটের নেশাই এখন ভিলেন। কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, রাত জেগে একটানা রিল দেখার অভ্যাস বা ডুম স্ক্রলিং অল্প বয়সিদের হার্টকে বুড়িয়ে দিচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, যারা রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২০% বেশি। আর ভারতে ৩০-৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ এখন এই ঘুমের অভাব।
কীভাবে রিল আপনার হার্টের ক্ষতি করছে?
১. ব্লু লাইটে ঘুমের সর্বনাশ: মোবাইল স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্ককে বোকা বানায়। মস্তিষ্ক ভাবে এখনও দিন। ফলে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন বেরোতেই পারে না। ঘুম পাতলা হয়ে যায়।
২. রক্তচাপ বাড়ছে: ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বাড়ে। এতে রক্তচাপ বাড়ে, হার্টকে বেশি জোরে পাম্প করতে হয়। রোজ রাত জাগলে এই চাপ স্থায়ী হয়ে যায়।
৩. ওজন ও সুগার বাড়ছে: রাত জাগলে খিদে পায়, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ইনসুলিনের কাজ ব্যাহত হয়। ফলে ওজন, সুগার, কোলেস্টেরল - তিনটেই বাড়ে, যা হার্ট অ্যাটাকের ত্রিফলা।
৪. মানসিক চাপ: সারাক্ষণ অন্যের পারফেক্ট জীবন, নেতিবাচক খবর দেখতে দেখতে মনের ওপর চাপ বাড়ে। উদ্বেগ থেকে হার্টের ছন্দপতন হয়।
বাঁচার উপায় কী? ‘ডিজিটাল সানসেট’ মানুন
সূর্য ডুবলে যেমন দিন শেষ, তেমনই ঘুমের ১ ঘণ্টা আগে আপনার ডিজিটাল দুনিয়াও শেষ করতে হবে। এটাই ডিজিটাল সানসেট।
কীভাবে করবেন?
- ৯০ মিনিটের নিয়ম: ঘুমাতে যাওয়ার ৯০ মিনিট আগে ফোন উল্টে রাখুন বা অন্য ঘরে চার্জে দিন। বিছানায় ফোন নিয়ে যাবেন না।
- নো-স্ক্রিন রুটিন: ওই ৯০ মিনিটে বই পড়ুন, হালকা স্ট্রেচিং করুন, জার্নাল লিখুন বা মেডিটেশন করুন।
- গ্রেস্কেল মোড: খুব দরকার হলে রাত ৯টার পর ফোনে গ্রেস্কেল বা Eye Comfort Mode অন করে রাখুন। রিলের আকর্ষণ কমবে।
- সকালে নো-ফোন: ঘুম থেকে উঠে প্রথম ৩০ মিনিট ফোন ছোঁবেন না।
মনে রাখবেন, একটি রিলের দাম আপনার একটি হার্টবিটের থেকে বেশি নয়। আজ থেকেই ডিজিটাল সানসেট শুরু করুন।


