সোনার গয়না ছাড়া বাঙালি নারীর সাজ অসম্পূর্ণ। ২২ ক্যারেট সোনায় তৈরি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সীতাহারের কয়েকটি ডিজাইন দেখে নিন। অ্যান্টিক, ইউ-শেপ, মিনাকারি বা মাল্টি লেয়ার—সব ডিজাইনই আপনাকে দেবে রাজকীয় লুক।
সোনার গয়না ছাড়া মহিলাদের সাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কানের দুল থেকে শুরু করে হার, সবকিছুই খুব স্পেশাল। আজকাল অবশ্য ভারী ডিজাইনের বদলে মিনিম্যাল জুয়েলারির চল বেড়েছে। বাজারে পিতল থেকে শুরু করে ১ গ্রাম গোল্ডের হাজারো ডিজাইন পাওয়া যায়। কিন্তু যখন ঐতিহ্যবাহী গয়নার কথা আসে, তখন ২২ ক্যারেট সোনার কদরই আলাদা। আপনিও যদি এমন কিছু ভাবেন, তাহলে হালকা ডিজাইনের বদলে পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সীতাহার বেছে নিতে পারেন। এটি আপনাকে শুধু জমকালো আর রাজকীয় লুকই দেবে না, যেকোনো অনুষ্ঠানে আপনার সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলবে।

অ্যান্টিক কাজের সীতাহার ডিজাইন
আপনার যদি ভিন্টেজ, ক্লাসিক আর রাজকীয় গয়না পছন্দ হয়, তবে এই সীতাহারটি আপনার জন্য পারফেক্ট। এতে লম্বা, চৌকো আকারের একটি ভারী পেনডেন্ট রয়েছে। মাঝখানে সুন্দর ফ্লোরাল মোটিফ আর সূক্ষ্ম জালের কাজ এটিকে রাজকীয় লুক দিয়েছে। লকেটের নিচে ঝুলতে থাকা ছোট ছোট সোনার ঘুঙুর এটিকে আরও ঐতিহ্যবাহী করে তুলেছে। শুধু তাই নয়, এর চেনটিও বেশ চওড়া এবং কারুকার্য করা। বেনারসি বা কাঞ্জিভরম শাড়ির সঙ্গে এই হার পরলে অসাধারণ দেখাবে।

ইউ-শেপ সীতাহার ডিজাইন
ইউ-শেপ ডিজাইনের এই সীতাহারটি কলকা কারুকার্য থেকে অনুপ্রাণিত, যা পুরো নেকলাইনকে ঢেকে রাখে। নিচে রয়েছে অর্ধ-গোলাকার সূক্ষ্ম স্ট্রাইপ এবং পাতা ডিজাইনের লকেট। সঙ্গে রয়েছে ডবল লেয়ারের সূক্ষ্ম চেন। এটি ঐতিহ্যবাহী হলেও দেখতে বেশ মডার্ন। যে মহিলারা স্টাইলের সঙ্গে মজবুত গয়না চান, তাঁরা এটি বেছে নিতে পারেন। সিল্ক-বেনারসির পাশাপাশি হ্যান্ডলুম বা তসর সিল্ক শাড়ির সঙ্গেও এটি পরা যায়।
মডার্ন শিল্ড গোল্ড সীতাহার
আপনি যদি এমন একটি সীতাহার চান যা বাংলার শিল্পের ছোঁয়ার সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল, তবে এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ। এর পেনডেন্টটি হার্ট বা শিল্ড আকারের হয়। মাঝখানে ফ্লোরাল মোটিফ তৈরি করা হয়েছে এবং সঙ্গে লম্বা-ছুঁচলো পাতার মতো দেখতে লকেট এটিকে একটি মডার্ন ও আকর্ষণীয় লুক দেয়। এর চেনটিও বেশ अनोखा। এখানে ফ্ল্যাট স্ট্রিপের মাঝে ইন্টারলকিং কার্ভড চেন জোড়া হয়েছে।

ক্লাসিক মিনাকারি কাজের সোনার সীতাহার
২০ গ্রাম সোনা দিয়ে ছবির মতো দেখতে এই সীতাহারটি তৈরি করা যেতে পারে। এর পেনডেন্টে খুব ঐতিহ্যবাহী এবং জটিল কারুকার্য রয়েছে। সঙ্গে সূক্ষ্ম জালের কাজ এটিকে অনন্য করে তুলেছে। এর চেনটি দেখতে অনেকটা ট্র্যাডিশনাল মাদুর বা বিনুনি করা স্ট্রিপের মতো। চেনের শেষে পেনডেন্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সুন্দর কলস ডিজাইন রয়েছে, যা পুরনো দিনের নকশার কথা মনে করিয়ে দেয়। আপনি যদি বাংলার ঐতিহ্যকে আপনার জুয়েলারি কালেকশনের অংশ করতে চান, তবে এই ডিজাইনটি আপনার জন্য। লাল বেনারসি শাড়ির সঙ্গে এটি পরার জন্য সেরা।
মাল্টি লেয়ার লহরী সীতাহার
ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল পেনডেন্টের হারের থেকে আলাদা কিছু চাইলে এই ধরনের লেয়ারড ডিজাইন বেছে নিতে পারেন। এটি নেকলাইনকে লম্বার সঙ্গে ভলিউমও দেয়। বিস্তারিত বলতে গেলে, এটি তিনটি লেয়ারে তৈরি, যা ছোট ছোট ড্রপস ওয়ার্কের ওপর এসে মেশে। হারের দুই পাশে সোনার ফ্ল্যাট, আয়তক্ষেত্রাকার স্ট্রিপ দেওয়া হয়েছে, যা এগুলিকে একসঙ্গে জুড়ে রেখে একটি সুন্দর লুক দেয়।

সীতাহার স্টাইলের মটরমালা
এতে কোনো বড় পেনডেন্ট ছাড়াই কেবল একটি ভারী চেন দেওয়া হয়েছে, যা নেকলেসের মতো লুক দেওয়ার পাশাপাশি পুরো গলা ঢেকে রাখে। এই ডিজাইনটি ছোট ছোট মুক্তো এবং দানাদার লিঙ্কের একটি দারুণ কম্বিনেশন। হারের উপরের অংশে খোদাই করা চক্র ব্রোচ দেওয়া হয়েছে, যা বাঙালি গয়নার আসল পরিচয়। এটি একটি অত্যন্ত ব্যালেন্সড ও ক্লাসিক পিস, যা কোনো রকম চিন্তা ছাড়াই যেকোনো জায়গায় পরা যেতে পারে।
সীতাহার নেকলেসের বিশেষত্ব
- সীতাহার নেকলেস ৫-১০ গ্রামেও তৈরি করা যেতে পারে।
- ওজনে হালকা হলেও দেখতে জমকালো এবং ভারী লুক দেয়।
- বাঙালি সীতাহার একটি এভারগ্রিন ডিজাইন।
- সোনার চোকার বা নেকলেসের তুলনায় এটি দৈর্ঘ্যে বড় হয়।


