মন্দারমণি পড়েছে বঙ্গোপসাগরের একদম উত্তর প্রান্তে, পূর্ব মেদিনীপুরে। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়ালে তুমি আসলে তাকিয়ে আছো দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। আর ঠিক ওপারে, হাজার কিলোমিটার জল পেরিয়ে রয়েছে মায়ানমার-থাইল্যান্ডের উপকূল আর আন্দামান সাগর। মাঝে কোনো স্থলভাগ নেই - শুধু বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি।
মন্দারমণি হলো পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটা সমুদ্রতীরের গ্রাম। এটা বঙ্গোপসাগরের একদম উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। মানে তুমি যখন ঢেউ দেখো, তুমি আসলে বঙ্গোপসাগরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছো।

দিঘা আর বাঙালির আবেগের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জগন্নাথ মন্দির হওয়ার পর থেকে দিঘায় বেড়়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। দিঘার পাশাপাশি মন্দারমণিও কিন্তু অনেক বাঙালির পছন্দের উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। দিঘার তুলনায় কিছুটা কম ভিড় হওয়ায় অনেকেই মন্দারমণির বিচ বেশ পছন্দ করেন।
মন্দারমণিতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আজও সকলের কাছে অজানা। কখনও ভেবে দেখেছেন কি, মন্দারমণির সমুদ্রের ঠিক ওপারে কী রয়েছে? এই বিষয়টি আপনি যদি গুগল ম্যাপে খোঁজার চেষ্টা করেন, তা হলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। এই সহজ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই আজও অজানা।
সমুদ্রের ঠিক ওপারে কী আছে - এটাই আসল চমক
মন্দারমণি থেকে সোজা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে তাকালে সমুদ্র ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। কারণ ওপারে কোনো ভারতীয় ভূখণ্ড নেই। বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে প্রায় ১৫০-২০০ কিমি দূরে গিয়ে পড়বে মায়ানমারের রাখাইন উপকূল আর থাইল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল। এর মাঝখানে পড়বে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপুঞ্জের দক্ষিণ অংশ। তাই মন্দারমণির সমুদ্র আসলে "খোলা সমুদ্র"। সামনে কোনো দেওয়াল নেই। ঢেউ যেগুলো আসে সেগুলো হাজার কিমি পথ পেরিয়ে আছড়ে পড়ে তোমার পায়ের কাছে।
৯% মানুষ কেন জানে না এইটা?
আমরা গুগল ম্যাপে ভারতের ম্যাপটাই দেখে অভ্যস্ত। বঙ্গোপসাগরটাকে ফাঁকা নীল অংশ ভাবি। কিন্তু মন্দারমণি দাঁড়িয়ে আছে ভারতের একদম পূর্ব সীমান্তে। এর ওপারে ভারত শেষ, শুরু হয় ইন্টারন্যাশনাল জলসীমা। তাই সূর্যাস্তের সময় যখন লাল আকাশ দেখো, মনে রেখো - সেই সূর্য ডুবছে মায়ানমারের আকাশে। তুমি আর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানুষ একই সূর্যাস্ত দেখছো, মাঝে শুধু বঙ্গোপসাগর।
মন্দারমণির ঢেউয়ের গল্প:
মন্দারমণির ঢেউ দীঘার মতো উঁচু না। কারণ বঙ্গোপসাগরের এই অংশে জল তুলনামূলক শান্ত। কিন্তু এই শান্ত জলই হাজার কিমি দূর থেকে আসা ঝড়-সাইক্লোনের খবর নিয়ে আসে। ২০০৯-এর আইলা থেকে ২০২০-এর আমফান - সব সাইক্লোনের প্রথম ধাক্কা লাগে এই উপকূলেই।
পরের বার মন্দারমণিতে গিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে একটু ভেবে দেখবেন। চোখের সামনে শুধু জল, কিন্তু সেই জলের ওপারে আরেকটা দেশ, আরেকটা সভ্যতা। সমুদ্র কোনো বাধা মানে না।
নোট: এই তথ্য ম্যাপ ও জেনারেল নলেজের ওপর ভিত্তি করে বলা যায় মন্দারমণি থেকে মায়ানমার/থাইল্যান্ডের দূরত্ব মোটামুটি ১৫০+ কিমি। তবে সাঁতার কেটে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।


