অফিসের কাজের চাপ, সংসারে মতবিরোধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন - সব মিলিয়ে ভেতর থেকে ক্লান্ত? ঘুমিয়েও ফ্রেশ লাগছে না? শরীর নয়, আপনার মনের বিশ্রাম দরকার। রইল ৫টি বৈজ্ঞানিক উপায় যা ১০ মিনিটেই আপনাকে চাঙ্গা করে তুলবে।
সকাল থেকে রাত - অফিসের ডেডলাইন, বসের বকা, বাড়িতে ছোটখাটো অশান্তি, সোশ্যাল মিডিয়ার নেগেটিভ খবর। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে মাথাটা যেন জ্যাম হয়ে গেছে? রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে উঠে মনে হচ্ছে এনার্জি নেই, কোনও কিছু ভালো লাগছে না, অল্পতেই রেগে যাচ্ছেন? এটা শারীরিক ক্লান্তি নয়, এটা মানসিক ক্লান্তি বা Mental Fatigue। আর এর জন্য দরকার মনের ডিটক্স।
মনোবিদরা বলছেন, মন খারাপ হলে জোর করে ভালো থাকার নাটক করবেন না। বরং ৫টি ছোট অভ্যাস আপনাকে ভেতর থেকে রিচার্জ করতে পারে। ওষুধ নয়, একদম ঘরোয়া উপায়।
১. ৫-৪-৩-২-১ গ্রাউন্ডিং টেকনিক - ২ মিনিটে টেনশন উধাও:
যখন খুব অশান্তি লাগবে, চোখ বন্ধ করে নয়, চোখ খুলে এটা করুন। মনে মনে খুঁজুন - ৫টা জিনিস যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন, ৪টে জিনিস যা ছুঁতে পারছেন, ৩টে শব্দ যা শুনতে পাচ্ছেন, ২টো গন্ধ যা পাচ্ছেন, ১টা স্বাদ। এটা আপনার মস্তিষ্ককে অতীতের ঝগড়া বা ভবিষ্যতের টেনশন থেকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনে। প্যানিক অ্যাটাক, অস্থিরতার জন্য ডাক্তাররাও এটা করতে বলেন।
২. 'ব্রেন ডাম্প' করুন - মাথা খালি করুন:
আমাদের মাথা একটা ডাস্টবিনের মতো, সব চিন্তা জমিয়ে রাখি। রাতে ঘুমানোর আগে একটা খাতা নিন। মাথায় যা চলছে - কাল কী কাজ, কার ওপর রাগ, কী ভয় - সব লিখে ফেলুন, সাজিয়ে নয়, যা মনে আসছে। লেখা হয়ে গেলে খাতা বন্ধ করে দিন। গবেষণা বলছে, লিখে ফেললে মস্তিষ্ক সেটাকে 'ডান' হিসাবে ধরে নেয়, চাপ ৫০% কমে যায়।
৩. ২০ মিনিটের 'নো-ফোন' হাঁটা:
মন খারাপ হলে আমরা ফোন নিয়ে রিল দেখি, এতে মন আরও ক্লান্ত হয়। বরং ফোন বাড়িতে রেখে ২০ মিনিট হেঁটে আসুন, পাড়ার মধ্যে বা ছাদে। কোনও গান নয়, কারও সঙ্গে কথা নয়। শুধু হাঁটুন আর চারপাশ দেখুন। প্রকৃতির আলো, হাওয়া আপনার কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমিয়ে দেয়। এটা মেডিটেশনের চেয়েও বেশি কার্যকর।
৪. জল আর আলোর থেরাপি:
মানসিক ক্লান্তিতে আমরা জল খেতে ভুলে যাই। ডিহাইড্রেশনে মেজাজ খারাপ হয়। এক গ্লাস ঠান্ডা জল ধীরে ধীরে খান, তারপর মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। আর সকাল ৯টার মধ্যে ১০ মিনিট রোদে দাঁড়ান। সকালের রোদে সেরোটোনিন হরমোন বাড়ে, যা মন ভালো রাখার হরমোন। সারাদিন ঘরে বসে থাকলে মন খারাপ হবেই।
৫. 'না' বলতে শিখুন - সবচেয়ে কঠিন কিন্তু জরুরি:
অনেক সময় আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই কারণ আমরা সবাইকে খুশি করতে চাই। অফিসের বাড়তি কাজ, বন্ধুর আবদার - সব হ্যাঁ বলে দিই। আজ থেকে একটা ছোট 'না' বলা প্র্যাকটিস করুন। "আজ পারব না, কাল করে দেব" - এই একটা লাইন আপনার ২ ঘণ্টা বাঁচিয়ে দেবে, মাথাও হালকা হবে। মনে রাখবেন, নিজেকে ভালো না রাখলে আপনি কাউকেই ভালো রাখতে পারবেন না।
মনে রাখবেন, মতবিরোধ, কাজের চাপ জীবনে থাকবেই। কিন্তু তার মধ্যে নিজের জন্য ১০ মিনিট বের করা বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।
