লোহার কড়াই, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের জায়গা বহুদিন হল দখল করেছে ননস্টিক কড়াই, পাত্র। কম তেলে রাঁধা যায়, আবার রান্নার সময় তরকারি চট করে কড়ার গায়ে লেগে যায় না বলেই এর জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট। তার স্থায়িত্ব বাড়ানোর কৌশল জেনে নিন।

গরম ননস্টিক কড়াইয়ে সরাসরি জল দেওয়া খুবই ক্ষতিকর, একে ‘থার্মাল শক’ বলা হয়, যা কড়াইয়ের কোটিং নষ্ট করে ও আয়ু কমায়। এছাড়া স্টিলের মাজুনি ব্যবহার, ধারালো হাতা-খুন্তি, উচ্চ তাপে রান্না এবং ডিশওয়াশারে ধোয়া ননস্টিক বাসনের মেয়াদ দ্রুত কমিয়ে দেয়, কারণ এতে টেফলন প্রলেপ উঠে গিয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবারের সাথে মিশতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ননস্টিক বাসনের মেয়াদ কমানোর মূল ভুলগুলি:

* গরম কড়াইয়ে ঠান্ডা জল: গরম পাত্রে হঠাৎ ঠান্ডা জল দিলে তা বেঁকে যেতে পারে (warping) এবং তাপ সমভাবে ছড়ায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে পাত্রটি নষ্ট করে দেয় ।

* ধারালো মাজুনি বা স্ক্রাবার ব্যবহার: স্কচ-ব্রাইট বা স্টিলের জালি ব্যবহার করলে ননস্টিকের প্রলেপ দ্রুত উঠে যায়।

* মেটাল বা ধারালো খুন্তির ব্যবহার: মেটালের হাতা-খুন্তি ননস্টিকের সারফেসে আঁচড় কাটে, ফলে কোটিং নষ্ট হয়ে যায়।

* খালি কড়াই অতিরিক্ত গরম করা: খাবার বা তেল ছাড়া ননস্টিক প্যান উচ্চ তাপে গরম করলে টেফলন আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হতে পারে।

* ডিশওয়াশারে ধোয়া: ডিশওয়াশারের উচ্চ তাপ ও কড়া ডিটারজেন্ট ননস্টিক প্রলেপ নষ্ট করে।

* সরাসরি সিনকে রাখা: রান্না শেষেই গরম কড়াই ধোয়ার জন্য সিনকে রাখা উচিত নয়, এতে থার্মাল শকের ঝুঁকি বাড়ে।

বাসনের আয়ু বাড়াতে করণীয়:

১. কড়াই কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর নরম স্পঞ্জ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২. সবসময় কাঠের বা সিলিকনের খুন্তি ব্যবহার করুন।

৩. কম বা মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

৪. বাসন ধোয়ার সময় হালকা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।

** ননস্টিক কোটিং উঠে গেলে বা আঁচড় পড়লে সেই পাত্রে রান্না না করাই শ্রেয়, কারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।