ঠান্ডা লাগেনি তবুও কাশি থামছে না? ওষুধেও কাজ হচ্ছে না? চিকিৎসকরা বলছেন এর পিছনে থাকতে পারে পেটের সমস্যা। অ্যাসিডিটি, GERD থেকেও হয় ক্রনিক কাশি। লক্ষণ আর সাবধানতা জেনে নিন।
সর্দি-জ্বর নেই, তবুও দিনের পর দিন কাশি? রাতে ঘুমাতে পারছেন না? সিরাপ খেয়েও লাভ হচ্ছে না? থামুন। এই কাশি শুধু গলার সমস্যা নাও হতে পারে। পেটের গন্ডগোল থেকেও টানা কাশি হতে পারে। শুনে অবাক লাগলেও এটা একদম সত্যি।
পেটের সাথে কাশির যোগ কোথায়:
আমাদের পেটে অ্যাসিড থাকে খাবার হজমের জন্য। GERD বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলে সেই অ্যাসিড খাবার নালী দিয়ে উপরে উঠে গলায় চলে আসে। গলা জ্বালাপোড়া করে আর শ্বাসনালীতে ইরিটেশন হয়। ফল? কিছুতেই না থামা শুকনো কাশি। একে ডাক্তারি ভাষায় বলে "Acid Reflux Cough"।
এই ৫টা লক্ষণ থাকলে সাবধান:
প্রথম লক্ষণ হল বুক জ্বালা। খাওয়ার পর বুকে জ্বলুনি বা টক ঢেকুর ওঠা। দ্বিতীয়ত, সবসময় গলা খুসখুস করা আর গলায় কিছু আটকে আছে ফিল হওয়া। তৃতীয়ত, রাতে কাশি বাড়া। শুয়ে থাকলে অ্যাসিড আরও উপরে ওঠে তাই রাতেই কাশি বেশি হয়। চতুর্থ লক্ষণ হল সকালে উঠে গলার স্বর বসে যাওয়া। আর পঞ্চম হল ঘুম থেকে উঠে মুখে তেতো বা টক স্বাদ পাওয়া।
কী ভাবে সাবধান হবেন:
সবার আগে খাওয়ার অভ্যাস বদলান। একবারে পেট ভরে না খেয়ে অল্প অল্প করে ৫-৬ বার খান। ঝাল, তেল, কফি, চকলেট এড়িয়ে চলুন। এরপর ঘুমানোর নিয়ম মানুন। খাওয়ার ৩ ঘন্টার মধ্যে শোবেন না। বালিশ একটু উঁচু করে শুন। দিনে ৮-১০ গ্লাস জল খান। এটা অ্যাসিডকে পাতলা করে। ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পেটে চর্বি বেশি থাকলে অ্যাসিড উপরে ওঠার চান্স বেশি থাকে। আর সবচেয়ে জরুরি, ২ সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে নিজে ওষুধ না খেয়ে গ্যাস্ট্রো ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপি লাগতে পারে।
ঘরোয়া টোটকা:
গলার আরামের জন্য উষ্ণ গরম জল, আদা-মধু আর তুলসী চা খেতে পারেন। খাওয়ার পর একটু হাঁটুন। টাইট বেল্ট বা কোমরবন্ধ পরবেন না।
কাশি মানেই সবসময় ঠান্ডা লাগা নয়। শরীর কোনো না কোনো ভাবে সিগন্যাল দেয়। পেটের সমস্যা থেকে কাশি হলে শুধু কাশির সিরাপে কাজ হবে না। শিকড় থেকে সমস্যা সারাতে হবে।
