কুমড়োর বীজ সরাসরি ব্রণ নিরাময় না করলেও এর পুষ্টিগুণ ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক। এতে থাকা জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে ও ত্বকের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তাই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি ব্রণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

টিনএজার হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, ব্রণর সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রণ কমানোর নানা রকম টোটকা দেখা যায়, যার মধ্যে একটি হলো কুমড়োর বীজ খাওয়া। বলা হয়, এটি নাকি ত্বকের জন্য খুব উপকারী। কিন্তু সত্যিই কি কুমড়োর বীজ ব্রণ সারাতে পারে?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুমড়োর বীজ সরাসরি ব্রণের কোনো সমাধান নয়। তবে এর পুষ্টিগুণ ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং ব্রণ হওয়ার কিছু কারণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

২০২২ সালে 'জাড ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, কিছু খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর ১ (IGF-1) নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

কুমড়োর বীজে জিঙ্ক প্রচুর পরিমাণে থাকে। জিঙ্ক এমন একটি খনিজ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ক্ষত সারাতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ব্রণর সমস্যা রয়েছে, তাদের শরীরে প্রায়শই জিঙ্কের ঘাটতি থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে জিঙ্ক গ্রহণ করলে ব্রণর কারণে হওয়া প্রদাহ কমতে পারে।

এছাড়াও, এই বীজে ভিটামিন ই-র মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এগুলো ত্বকের ক্ষতি এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। কুমড়োর বীজ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রোটিনেরও ভালো উৎস, যা সামগ্রিকভাবে ত্বকের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ব্রণ হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকে, যেমন - অতিরিক্ত তেল উৎপাদন, লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যাকটেরিয়া, প্রদাহ, হরমোন এবং জেনেটিক্স। যেহেতু কুমড়োর বীজে প্রদাহ-রোধী পুষ্টিগুণ রয়েছে, তাই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি খেলে স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখতে সাহায্য হতে পারে।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কুমড়োর বীজে থাকা জিঙ্ক প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ত্বকের নিরাময় প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করে। আবার অনেকে মনে করেন, এর পুষ্টিগুণ হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, যা হরমোনের তারতম্যের কারণে হওয়া ব্রণর ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে শুধু কুমড়োর বীজ খেলেই যে ব্রণ সেরে যাবে, এমন কোনো প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে জিঙ্কের অভাব মারাত্মক ব্রণর কারণ হতে পারে এবং জিঙ্ক সাপ্লিমেন্টেশন ব্রণর লক্ষণগুলো উন্নত করতে পারে। যেহেতু কুমড়োর বীজ জিঙ্কের একটি প্রাকৃতিক উৎস, তাই এটি মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে পারে।