আজকাল হৃদরোগ শুধু বয়স্কদের নয়, কম বয়সেও হানা দিচ্ছে। উৎসবের ভিড়, অনিয়ম, স্ট্রেসের মাঝে আচমকা বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হলে তা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এই সময় কী করবেন, জেনে রাখা জরুরি।

দুর্গাপুজোর ভিড়, আলো, আনন্দের মাঝেই আচমকা বুকে চাপ ধরা ব্যথা, সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট। অনেকেই ভাবেন গ্যাস বা ক্লান্তি। কিন্তু এই সামান্য ভুলই কেড়ে নিতে পারে প্রাণ। চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগ এখন আর শুধু বার্ধক্যের রোগ নয়। ৩০-৪০ বছর বয়সেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা। তাই উৎসবের মরশুমে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলি চিনে নিন:

সব হার্ট অ্যাটাকে একই লক্ষণ থাকে না, তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে।

১. বুকে ব্যথা: বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, জ্বালা বা মুচড়ে যাওয়ার মতো ব্যথা যা ৫ মিনিটের বেশি থাকে। ২. ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: ব্যথা বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা পেটের ওপরের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। ৩. শ্বাসকষ্ট: হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট, দমবন্ধ লাগা। ৪. অন্যান্য লক্ষণ: অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা।

মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষণ কিছুটা আলাদা হতে পারে, যেমন পিঠে বা চোয়ালে ব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বমি।

আক্রান্ত হলে কী করবেন?

১. দেরি করবেন না, এখনই হাসপাতালে যান: এটাই সবচেয়ে জরুরি। ব্যথাকে অবহেলা করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে ১০২ বা ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করুন বা নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। উৎসবের ভিড়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে যাবেন না।

২. রোগীকে বসান ও শান্ত রাখুন: রোগীকে মাটিতে বা চেয়ারে বসিয়ে দিন, শুইয়ে দেবেন না যদি শ্বাসকষ্ট হয়। জামাকাপড় ঢিলে করে দিন। ভিড় সরিয়ে দিন, যাতে হাওয়া চলাচল করে।

৩. নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনও ওষুধ, এমনকি গ্যাসের ওষুধও খেয়ে সময় নষ্ট করবেন না। যদি রোগী আগে থেকেই হার্টের রোগী হন এবং চিকিৎসক আগে থেকে কোনও ওষুধ যেমন Sorbitrate খেতে বলে থাকেন, তবেই সেটি দিন।

৪. CPR জানা থাকলে: যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে CPR জানা থাকলে শুরু করুন এবং সাহায্য না আসা পর্যন্ত চালিয়ে যান।

কী করবেন না?

- রোগীকে হাঁটাচলা করাবেন না বা একা ছেড়ে দেবেন না। - জল বা খাবার খাওয়াতে যাবেন না। - "একটু বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে" ভেবে বাড়িতে অপেক্ষা করবেন না। হার্ট অ্যাটাকে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।

উৎসবে সতর্ক থাকুন:

অতিরিক্ত ভাজাভুজি খাওয়া, রাত জাগা, অতিরিক্ত ভিড়ে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, মানসিক চাপ এবং ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল আছে বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাঁরা বিশেষ সতর্ক থাকুন। পুজোর আনন্দের মাঝেও পর্যাপ্ত জল খান, বিশ্রাম নিন।