Sundarban Labels: মধু, ঘি, চাল, তেল - সব কিছুর গায়েই এখন সুন্দরবন। কিন্তু সত্যিই কি সেগুলি সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে আসছে, নাকি শুধু নাম ভাঙিয়ে বেশি দামে বিক্রির ফাঁদ? ফাঁস হল আসল সত্য।
Sundarban Labels: মধু-ঘি-চাল-তেলের গায়ে 'Sundarban', সত্যিই কি সেগুলি সুন্দরবনের? বাজারে বা অনলাইন শপিং সাইট খুললেই এখন চোখে পড়বে এই একই ছবি। সুন্দরবনের খাঁটি মধু, সুন্দরবনের দুধেশ্বর চাল, সুন্দরবনের গাওয়া ঘি, সুন্দরবনের কাঠের ঘানি সরষের তেল। সুন্দরবন নামটা শুনলেই আমাদের মনে একটা খাঁটি, প্রাকৃতিক, ভেজালহীন জিনিসের ছবি ভেসে ওঠে। আর ক্রেতার এই বিশ্বাসকেই পুঁজি করে রমরমিয়ে চলছে ব্র্যান্ডিংয়ের খেলা।
মধু-ঘি-চাল-তেলের গায়ে 'Sundarban', সত্যিই কি সেগুলি সুন্দরবনের? ফাঁস হল ব্র্যান্ডিংয়ের খেলা
কিন্তু প্রশ্ন হল, সত্যিই কি সুন্দরবনে এত পরিমাণে মধু, ঘি, চাল উৎপাদন হয় যা গোটা কলকাতা, এমনকি গোটা দেশের চাহিদা মেটাতে পারে? উত্তরটা হল, না। বন দফতর সূত্রে খবর, সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে বছরে যে পরিমাণ খাঁটি মধু সংগ্রহ করা হয়, তা খুবই সীমিত। মৌলে বা মৌয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঘের এলাকা থেকে এই মধু সংগ্রহ করেন। সেই আসল মধুর পরিমাণ বাজারে বিক্রি হওয়া 'সুন্দরবন মধু'র ১০ শতাংশও নয়।
একইভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে দুধেশ্বর, কনকচূড়, বাসমতি-র মতো কিছু দেশি ধানের চাষ হয় ঠিকই, কিন্তু তার ফলন এত বেশি নয় যে, প্রতিটি মুদি দোকানে 'সুন্দরবন চাল' নামে বিক্রি হবে। অভিযোগ উঠছে, বাইরে থেকে কম দামে সাধারণ চাল, ঘি বা তেল কিনে এনে শুধু প্যাকেটের গায়ে 'Sundarban Special' বা 'Product of Sundarban' লিখে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে FSSAI লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক বা উৎপাদনের সঠিক ঠিকানাও থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের জিওগ্রাফিক্যাল ব্র্যান্ডিং ফ্রড। দার্জিলিং চা-এর মতো সুন্দরবনের মধুরও GI ট্যাগ থাকা উচিত, যাতে শুধুমাত্র সুন্দরবন অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যই সুন্দরবন নাম ব্যবহার করতে পারে। এখনও পর্যন্ত সেই কড়া নিয়ম না থাকায় ক্রেতারা ঠকছেন।
*তাহলে আসল পণ্য চিনবেন কীভাবে?*
১. প্যাকেটের পিছনে FSSAI লাইসেন্স নম্বর এবং উৎপাদকের সম্পূর্ণ ঠিকানা দেখুন। আসল সুন্দরবনের পণ্য হলে ঠিকানা দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি বা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকারই হবে, অন্য জেলার নয়।
২. সরকারি সমবায়, যেমন - সুন্দরবন কো-অপারেটিভ বা বন উন্নয়ন নিগম এবং WWF অনুমোদিত সংস্থা থেকে মধু কিনুন।
৩. দাম দেখে সতর্ক হন। খাঁটি সুন্দরবনের মধু কখনও ২০০-৩০০ টাকায় কেজি দরে পাওয়া সম্ভব নয়। এর দাম সাধারণত ৬০০ টাকার উপরে হয়।
৪. আজকাল অনেক বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড QR কোড দিচ্ছে। কোড স্ক্যান করে মধু সংগ্রহের জায়গা ও তারিখ যাচাই করে নিন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


